চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

পণ্য খালাসে প্রবাসীরা এবার এনবিআরের দ্বারস্থ হলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ জুলাই, ২০২৩ | ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের প্রায় ২৫ টন পণ্য আটকে আছে গত ৫ মাস ধরে। এতে বিমানবন্দরের ওয়্যারহাউসে আটকে থাকা পণ্যগুলোর মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের প্রশ্ন-কষ্টের অর্জিত টাকায় পরিবারের জন্য আনা পণ্য কি ওয়্যারহাউসেই নষ্ট হয়ে যাবে?

 

এবার প্রবাসীরা তাদের পণ্য খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দারস্থ হয়েছেন। গত সপ্তাহে এনবিআরের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে পণ্য খালাসে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

 

মূলত ওই ২৫ টন পণ্য খালাস নিতে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্র (ক্লিয়ার পারমিট-সিপি) চেয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মূলত প্রবাসীদের চালানে ১শ কেজির বেশি পণ্য থাকায় ওইসব চালাসের পণ্য খালাস বন্ধ রেখে অনাপত্তিপত্র চাওয়া হচ্ছে।

 

গত মে মাসে প্রবাসীদের পাঠানো চট্টগ্রাম কাস্টমসের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেইট ইউনিটের ডেপুটি কমিশনার মো. আহসান উল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ওই অনাপত্তিপত্র দাখিলের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩০ দিনের মধ্যে অনাপত্তিপত্র দাখিল করতে না পারলে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ওই পণ্য নিলামে চলে যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

 

এছাড়া কাস্টমস কমিশনারের মোখিক নির্দেশের কড়াকড়িতে পণ্যগুলো ছাড় পাচ্ছে না বলে দাবি তোলেন প্রবাসীরা। প্রবাসীদের দাবি, প্রবাসীরা ৩ থেকে ৫ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে জমিয়ে রাখে। যাতে দেশে যাওয়ার সময় পরিবারের জন্য ওইসব পণ্য সামগ্রী নিয়ে যাওয়া যায়। তবে দিন দিন প্রবাসীদের কোণঠাসা করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসীদের আনা পারিবারিক ব্যবহারের কার্গো পণ্য ও কার্গো ফ্লাইট চিরতরে বন্ধ করে দেবার চক্রান্তের অংশ হিসেবে সিপি দাখিলের এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে গত রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠালেও সেগুলো খালাস নিতে পারেনি। কাস্টমসের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে ভুক্তভোগী প্রবাসীরা।

 

এদিকে প্রবাসীদের পণ্য খালাসে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানায়, প্রবাসীদের পণ্য খালাস নিতে না পারায় প্রতিদিন বাড়ছে বিমানবন্দরের ওয়্যারহাউস চার্জ। এমনকি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে প্রবাসীদের আনা পণ্য। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশেন অর্গানাইজেশন বিমানবন্দরের সক্ষমতা নিরুপণ করে প্রতিবেদন দেয়। বিমানবন্দরের সক্ষমতার বড় একটি অংশ কার্গো পরিবহন, কার্গো ওয়্যারহাউসের সক্ষমতা। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো খালাস বন্ধ থাকায় এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পণ্যবাহী কার্গো বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাংলাদেশ বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের আয় কমেছে।

 

এর সাথে বড় ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হওয়া ফলমূল ও সবজি রপ্তানিতে। কার্গো ফ্লাইট না থাকায় রপ্তানি হচ্ছে না চট্টগ্রাম থেকে ফলমূল ও সবজি। এতে রপ্তানি বাজার দখল করে নিচ্ছে ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশগুলো।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন