চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

মূল হোতা মান্নানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

মাছ-মুরগির খামারে যাচ্ছে পুঁতে ফেলা পণ্য

নাজিম মুহাম্মদ

২৫ জুলাই, ২০২৩ | ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ধ্বংস করা পণ্য মাটির নীচে পুঁতে ফেলতে কাস্টমসের কাছে জমি ভাড়া দিয়েছেন আনোয়ারার আবদুল মান্নান। কয়েকমাস পর পুঁতে ফেলা পণ্য রাতের অন্ধকারে মাটির নীচ থেকে তুলে নগরীর বাইরে বিভিন্ন মাছের খামারে পাচার করে মান্নান। এতে মান্নানের দুই দিকে লাভ। জমি ভাড়া দিয়ে কাস্টমসের কাছ থেকে একদিকে ভাড়া যেমন পান তেমনি মাটির নীচে পুঁতে ফেলা পণ্য বিক্রি করেও আয় করেন লাখ লাখ টাকা। বছরের পর বছর ধরে এ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন সুচতুর মান্নান।

 

গত বছরের ৮ নভেম্বর আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সিটি কর্পোরেশনে ডাম্পিং ইয়ার্ড এলাকায় মাটির নীচে পুঁতে রাখা পণ্য তুলে নেয়ার সময় ছয়টি এস্কেভেটর, ১৪টি ডাম্পিং ট্রাক ও একটি পে-লোডার জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় মান্নান ও নুরুল কবির। এ ব্যাপারে কাস্টমস বাদী হয়ে চুরির অপরাধ এনে বন্দর থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

জামিন নেয়ার পর গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে ফের পুঁতে ফেলা পণ্য তুলছিল মান্নান। এবার বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মান্নানের শ্যালকসহ পাঁচজনকে আটক করে। মান্নানসহ ছয়জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন বন্দর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ফয়সাল সারোয়ার।

 

সম্প্রতি মান্নানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন বন্দর থানার উপপরিদর্শক কিশোর মজুমদার। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, কর্ণফুলী থানার গোয়ালপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নান (৩৯), আনোয়ারা বৈরাগ ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম লিটন (২৬), চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারার সুজন কান্তি দে (৩৫), লক্ষীপুরের ভবানীগঞ্জের গিয়াস উদ্দিন (৩৭), একই এলাকার মো. ইউসুফ (৩৮), বন্দর থানার মুনির নগরের আশরাফ ইসলাম রনি (৩০)। ঘটনার পর থেকে মান্নান আত্মগোপনে চলে যান। বাকী পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালিশহর আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় মক্কা-মদিনা-২ ডিপোর মালিক আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের আবদুল মান্নান। মেয়াদোত্তীর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ, নষ্ট, পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পণ্য ধ্বংস করার পর মাটির নীচে পুতে রাখতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ডিপোর জায়গা ভাড়া দেন মান্নান। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিজিবি, পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, কাস্টমস, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পণ্য মাটির নীচে পুঁতে ফেলে। পরবর্তীতে মান্নান তার লোকজন দিয়ে পুঁতে ফেলা পণ্য রাতের অন্ধকারে মাটির নীচ থেকে তুলে ট্রাকে তুলে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন মুরগি ও মাছের খামারে বিক্রি করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর নয় হাজার ১৩১ মেট্রিক টন আমদানি নিষিদ্ধ পঁচা নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্য ধ্বংস করার পর মক্কা-মদিনা ডিপোর অভ্যন্তরে মাটির নীচে পুঁতে ফেলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সাত মাস পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পুঁতে ফেলা এসব পণ্য রাতের অন্ধকারে ট্রাকে তোলার সময় আটক করে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মান্নান পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সুজন, গিয়াস উদ্দিন, ইউসুফ, আশরাফ ও মান্নানের শ্যালক নজরুল ইসলাম হাতেনাতে ধরা পড়েন পুলিশের হাতে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার উপপরিদর্শক কিশোর কিশোর মজুমদার জানান, মাছের খাদ্য উৎপাদনে মিট এন্ড বোনমিলের (এমবিএম) ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে ২০১৯ সালে মৎস্য অধিদপ্তর নির্দেশনাও জারি করেছেন।

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা মাছের খাদ্য উৎপাদনে এমবিএম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমবিএম জনস্বাস্থ্য ও প্রাণির জন্য হুমকি।

 

এর আগে ২০১৮ সালে সরকারিভাবে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের পশু খাদ্যের গুণগত মান সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে প্রাণী খাদ্যের ঝুঁকিপুর্ণ খাদ্য উপকরণ এমবিএম বিদেশ থেকে আমদানি নিষিদ্ধ।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন