চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

জালিয়াতি করে বাবার পেনশনের ১৫ লাখ টাকা তুলে নিলেন ভাই!

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ জুলাই, ২০২৩ | ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

মোজাফফর আহমদ। কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে মৃত্যু হয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মচারীর। নিয়ম অনুযায়ী কর্মরত অবস্থায় কোন সরকারি কর্মী মারা গেলে ভাতা ও পেনশনের সুবিধা পাবেন তার ওয়ারিশনগণ। সে অনুসারে এ সুবিধা পান মোজাফফরের পরিবার। কাগজে কলমে বাবার পেনশনের ১৫ লাখ টাকা দুই সন্তান সমানভাগে পেলেও বাস্তবে পেয়েছেন মাত্র একজন। মূলত আপন ভাইয়ের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও জাল কাগজ তৈরি করে একাই এসব অর্থ হাতিয়ে নেন অপর ভাই। এমন জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ওঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে।

 

দুদক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে কর্মচারী মোজাফফর আহমেদ কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়ার পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত ভাতা-পেনশনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন তারই পরিবারের দুই সন্তান। তাদের একজন ইমাম উদ্দিন। যিনি বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত থাকার সুবাদে একই বিভাগের অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় তার স্বাক্ষর জাল করে বাবার পেনশনের অর্থ হাতিয়ে নেন বলে দুদকে অভিযোগ করেন অপর ভাই আলমগীর হোসেন।

 

দুদক জানায়, দুদকের অভিযোগ নম্বর ১০৬ এ জালিয়াতি করে পেনশনের অর্থ তুলে নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হালিশহর এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে দুদক টিম পিডিবির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

 

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে পিডিবিতে কর্মরত থাকা ইমাম উদ্দিন বাবার ভাতা ও পেনশনের অর্থ তুলেন। যার পরিমান ১৫ লাখ টাকা। সবগুলো অর্থই ইমাম উদ্দিন নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন। কিন্তু  পেনশনের অর্থ তুলে নিতে তার ভাইয়ের স্বাক্ষর জাল করেন বলে অভিযোগ আপন ভাই আলমগীর হোসেনের। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের কাছে যাবতীয় কাগজ প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

 

জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘কমিশনের নির্দেশে এনফোর্সমেন্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযোগকারীর এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তা পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে চাহিদাকৃত আরও তথ্য যাচাই বাছাই শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে প্রেরণ করা হবে।’

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট