চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

বাদ পড়া শিশুদের টিকাদানে বিশেষ ক্যাম্পেইন চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুলাই, ২০২৩ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও টিকা না পাওয়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে বিশেষ ক্যাম্পেইন গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ উপলক্ষে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বাদ পড়া শিশুদের তালিকা প্রণয়ন করে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। গতকাল (সোমবার) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জেলা এডভোকেসি সভায় এসব তথ্য জানান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

 

তিনি জানান, টিকা দেওয়ার মাধ্যমে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারো শুরু হচ্ছে বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ। এবারে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘দ্য বিগ ক্যাচ’ অর্থাৎ ‘জনগণ ও বৈশ্বিক সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতিমারী পরবর্তী সময়ে তথা ২০২৩ সালের মধ্যেই টিকা না পাওয়া শিশুদের টিকা নিশ্চিতকরণ’। বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো কোন শিশু যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে। শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব অভিভাবকদের। এজন্য অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস অতিমারী চলাকালে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির নিয়মিত কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে টিকার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব পুনরায় লক্ষ্য করা যায়। এই ঝুঁকি হতে রক্ষা পেতেই বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহের এই আয়োজন। বর্তমানে দেশে শিশুদের পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ জাতীয় পর্যায়ে ৯৫ শতাংশ এবং জেলা পর্যায়ে ৯০ শতাংশ। সন্তান ধারণক্ষম নারীদের টিডি-৫ টিকাদান কাভারেজ জাতীয় পর্যায়ে ৮০ শতাংশের বেশি। দেশে পোলিও এবং মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার মুক্ত অবস্থা বজায় রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ দেশ হতে হাম, রুবেলা ও কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম দূর হবে বলে আশা করা যায়।

 

জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধারক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা মো. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি, মেডিকেল অফিসার ডা. নুরুল হায়দার, ডা. নওশাদ খান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. সেহেলী  নার্গিস, সীতাকুণ্ড উপজেলার উপজেলা  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ, জেলা ইপিআই সুপারিন্টেন্ডেন্ট হামিদ আলী।

 

সভায় উপজেলার সকল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ইপিআই ইনচার্জ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট