চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

মায়ের সাথে অভিমান করে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে দুই শিশু, ফিরিয়ে দিল পুলিশ

রাজীব রাহুল

১৮ জুলাই, ২০২৩ | ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

নয় বছরের জোনায়েদ মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসায় মা বকেছে। তাই সে রাগ করে সিলেটের মাধবপুর থানার ধর্মঘর গ্রাম থেকে রবিবার সকাল ১১টার সময় রওনা দেয় চট্টগ্রামের নানীর বাসার উদ্দেশ্যে। সাথে পিছু নেয় সাড়ে তিন বছরের ছোটবোন খাদিজা আক্তার। বাড়ি থেকে পাঁচ কি.মি দূরের রেল স্টেশনে পায়ে হেঁটে পৌঁছায়।

তারপর সারাদিন স্টেশনে এদিক সেদিক ঘুরে রাতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠে পড়ে দুজন। সারা রাত ট্রেনের এক কোনে বসে অনাহারে কাটানোর পর সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে নেমে পড়ে। এরপর জোনায়েদের মাথায় আসে না চট্টগ্রামের কোথায় তার নানীর বাসা। এদিকে ক্ষিধার জ্বালায় কান্না শুরু করেছে ছোট বোন খাদিজা। এসময় তাদের খুঁজে পায় কোতোয়ালী থানার টহল পুলিশ। থানার এসআই ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জোনায়েদকে নিয়ে রেল স্টেশনের আশেপাশে অনেক জায়গায় তাদের নিয়ে নানীর বাসা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার বাড়ির ঠিকানা জানতে চায়। কিন্তু জোনায়েদের শুধু মাদ্রাসার নাম মনে আছে। গুগলে সার্চ দিয়ে তার গ্রামের মেহেরগাঁও মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার ঠিকানা বের করে এসআই ইকবাল হোসেন। তারপর মাধবপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মাদ্রাসা থেকে ঠিকানা নিয়ে জোনায়েদের বাবা মো. জসিম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। 

হারিয়ে যাওয়ায় ছেলে ও মেয়েকে খুঁজতে মাধবপুরে গ্রামের পর গ্রাম ছুটছিলেন তাদের বাবা। মোবাইলে ছেলে মেয়ের সন্ধানের খবর শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। তারপর তিনি চাকরির সূত্রে চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় শাশুড়ি ও শ্যালক থাকেন বলে জানান এসআই ইকবালকে। পরে পেশায় পিকআপ চালক মো. জসিম মিয়ার শ্যালক হেলাল কোতোয়ালী থানায় আসলে তাদের দিকে মামা-মামা বলে ছুটে যান জোনায়েদ ও খাদিজা। জসিম মিয়ার অনুরোধে পুলিশ মামা হেলালের হাতেই দুজনকে তুলে দেন। 

এবিষয়ে এসআই ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, তাদের খুঁজে পাওয়ার পর আগে খাবার কিনে দিই। কারণ তখন সাড়ে তিন বছরের খাদিজা খাওয়ার জন্য কান্না করছিল। তারা বলতে পারছে না কোন ঠিকানা, এমনকি  নিজের বাড়ি অথবা নানীর বাসার খোঁজ। শুধু মাদ্রাসার নামের সূত্র ধরে তার বাবার সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাদের মামার হাতে তুলে দিয়েছি দুই শিশুকে। 

তাদের বাবা মো. জসিম মিয়া জানান, ছেলেটা মাদ্রাসা থেকে ছুটির আগে চলে আসায় তার মা বাড়িতে ভয় দেখিয়ে বলেছিল যে আমি বাড়িতে গেলে মারবো। তাই সে চট্টগ্রামে আমার শাশুড়ির বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেছে। আমার বাচ্চারা সারারাত কিছু খেতে পারেনি শুনে আমার বুক ফেটে গেছে। ছেলেটা বছর খানেক আগে একবার তার নানীর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল নানীর সাথে। সেই যাওয়াটা মনে রেখে বেরিয়ে গেছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। আমার সন্তানদের সাথে খারাপ কিছু ঘটেনি তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। পুলিশের উপকারের কথা আমার আজীবন মনে থাকবে।

 

পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট