চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিভক্তি

ইফতেখারুল ইসলাম

১৭ জুলাই, ২০২৩ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

২০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়েও চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা যায়নি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে দ্বিধা-বিভক্ত কার্যক্রম। যতদিন যাচ্ছে বিভক্তি তত বাড়ছে। সর্বশেষ গত শনিবার স্বেচ্ছাসেবকলীগ চান্দগাঁও থানা ও কয়েকটি ওয়ার্ডের সম্মেলন একটি অংশ বর্জন করলেও অপর অংশ মারামারির মাধ্যমে তা শেষ করেছে।

 

সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ঘটনায় এক বছর আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ফারুক আমজাদ খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আজিমকে সদস্য করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ নেতারা ঢাকায় গিয়ে নালিশ দেন। এরপর গত ৩ মার্চ কমিটির নেতাদের ঢাকায় তলব করা হয়। বৈঠকে ২০ সদস্যের মধ্যে ১৫ জনই একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। কেন্দ্র থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেয়া হয়। কিন্তু নগরীর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন শুরু হতেই সেই বিভক্তি ফের মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। গত শনিবার বহদ্দারহাটস্থ আর বি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত চান্দগাঁও থানা ও ৩টি ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন বড় একটি অংশ বর্জন করে। সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজসহ বর্তমান কমিটির মাত্র ৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযোগ, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন অংশটি স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারী পক্ষটিকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ডাকা হয় না। সম্মেলনে কারা কাউন্সিলর এবং ডেলিগেট কার্ড পাচ্ছে তার কোন রূপরেখা এবং আলোচনা নেই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

 

জানতে চাইলে নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি সুজিত দাশ পূর্বকোণকে বলেন, নগরীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে সংগঠন চালাতে ইচ্ছুক নন বলে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে। সর্বশেষ ৩৭ নম্বর মুনির নগর ওয়ার্ডে সাংগঠনিক নিয়ম মেনে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তাই বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে থানা সম্মেলনের কাজ চলছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আমরা আমাদের ২০ সদস্যকে থানা ভাগ করে দায়িত্ব দিয়েছি। ৪টি থানার সম্মেলন করেছি কোন ঝামেলা হয়নি। গত শনিবারের সম্মেলনে ক্ষণিকের জন্য যে বিশৃঙ্খলা হয়েছে তার কারণ জানার জন্য যারা সম্মেলনে আসেনি তাদেরকে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, উপ-নির্বাচনের জন্য আপাতত অন্যান্য থানার সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। একাংশের সম্মেলনে না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কারণ সবাইকে নিয়েই সবকিছু করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে তারা কেন আসছে না তা তার জানা নেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে ওয়ার্ড থানা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নজির নেই। আমরা কাজ করছি বলে হয়তো সমালোচনা বেশি হচ্ছে।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ফারুক আমজাদ খান পূর্বকোণকে বলেন, মহানগরে কিছু ভুল বুঝাবুঝি থাকতে পারে। সেটা যাতে না থাকে সে বিষয়ে তারা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের পর ২০২২ সালের ৯ মার্চ তিন বছরের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন