চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

আফছারুলের বিকল্প হতে দৌড়ঝাঁপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৭ জুন, ২০২৩ | ১২:৪০ অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা নিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাংসদ ডা. আফছারুল আমীন। একজন কর্মীবান্ধব নেতা এবং এমপি হিসেবে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুনাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার পুরষ্কার হিসেবে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় সাধারণ মানুষের ঢল নামে।

 

পিএইচ আমীন একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জানাজায় জমিয়তুল ফালাহ’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ অংশ নেয়। তার মৃত্যুর পর বিকল্প হিসেবে আসনটিতে উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে অনেকেই ইতোমধ্যে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। তবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের কেউই এখনো নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে রাজি নন। তারা সতর্কতার সাথে কথা বললেও নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা।  এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, মরহুম জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর সন্তান শিল্পপতি হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হকসহ যুবলীগের আরও একাধিক নেতৃবৃন্দের নাম। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সংগঠক এম এ আজিজের ছেলে সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার ও প্রয়াত ডা. আফছারুল আমীনের পরিবারের থেকেও একজন প্রার্থী হতে পারেন এমন আলাপ শোনা যাচ্ছে।  আফছারুল আমীনের বড় ছেলে ফয়সাল আমীন পূর্বকোণকে বলেন, তার বাবা সারাজীবন জনগণ নিয়েই ছিলেন। শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তিনি পরিবারকে সময় দিয়েছেন। জনগণের সেবা করতে পারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিশেষ রহমত। সুযোগ পেলে তিনিও করবেন। আফছারুল আমীনের ছোট ভাই ডা. আরিফুল আমীন পূর্বকোণকে বলেন, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বসে একজনকে মনোনীত করে তার জন্য নৌকার মনোনয়ন চাইবেন। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্য কাজ করবে তাদের পরিবার।

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন পূর্বকোণকে বলেন, তারা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই নির্বাচন নিয়ে এখনো মন্তব্য করতে চান না তিনি। তবে অতীতে নেত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা সফলতার সাথে পালন করেছি। বর্তমানে ১৪ দল চট্টগ্রামের সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। ১৪ দলকেও চট্টগ্রামে জাগিয়ে তুলেছি।

 

হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান বলেন, ‘তিনি নির্বাচন করবেন কি করবেন না সবকিছুর সিদ্ধান্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার। নেত্রীর সাথে কথা বলে তিনি যদি সম্মতি দেন তাহলে ফরম নেব। না হয় নেব না।’

 

যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, আফছারুল আমীনের সাথে তিনি একত্রে জেল খেটেছেন। তার মৃত্যুর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতিবিদের স্বপ্ন থাকে এমপি নির্বাচন করা। তিনিও চেষ্টা করবেন। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

 

তবে অধিকাংশের ধারণা খুব শিগগিরই এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং উপনির্বাচনে যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন পরবর্তী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তার মনোনয়ন নিশ্চিত থাকবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খবরাখবর নেওয়া শুরু করেছে।

 

প্রসঙ্গতঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-ষোলশহর) আসন। গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে (২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮) এ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডা. আফছারুল আমীন। তাঁর মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও আসনটি শূন্য ঘোষণা করা না হলেও নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে কোন আসনে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসের দিকে এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট