চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সৌদিআরব থেকে আসছে জাহাজ, পরীক্ষামূলক তেল খালাস ২৫ জুন

মিজানুর রহমান

৫ জুন, ২০২৩ | ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বিদেশ থেকে জাহাজে আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাসে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বড় জাহাজ (মাদার ভ্যাসেল) থেকে সরাসরি তেল খালাসে নেওয়া ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে এ মাসেই। সৌদিআরব থেকে আসা জাহাজের ডিজেল এসপিএম পাইপলাইন দিয়ে আগামী ২৫ জুন পরীক্ষামূলকভাবে খালাসের কথা রয়েছে।

 

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে নেওয়া বড় এই প্রকল্পটি চালু হলে আমদানি করা তেলবাহী জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাসে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। গভীর সাগরে নোঙর করা একটি ১ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী বড় জাহাজ থেকে তেল খালাসে সময় লাগবে মাত্র ২-৩ দিন। দেশে জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা বাড়বে ১০-১৫ দিন। কমবে তেল চুরি, সিস্টেম লস, পরিবহন নৈরাজ্য এবং পানি দূষণের হার।

 

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান পূর্বকোণকে বলেন, সৌদি আরব থেকে একটি ডিজেলবাহী বড় জাহাজ আসছে। আগামী ২৫ জুন ওই জাহাজের জ্বালানি দিয়ে এসপিএম প্রকল্পে অয়েল ফিলিং কমিশনিংয়ের কাজ শুরু করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী। প্রথম পর্যায়ে গভীর সাগরে নোঙর করা জাহাজ থেকে মহেশখালীর স্টোরেজ ট্যাংকে তেল নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, ওই অংশে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পাইপলাইন রয়েছে। পাইপলাইন কমিশনিং করার পর সেখানে থাকা হেজ, সার্কিট ভাল্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর স্টোরেজ থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত পাইপলাইন কমিশনিং করা হবে। প্রথমে ক্রুড অয়েল, পরে ডিজেল অয়েলের পাইপলাইন কমিশনিং করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী আগস্টে প্রধানমন্ত্রী এসপিএম প্রকল্প উদ্বোধন করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

 

সূত্র জানায়- বন্দরের অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের নাব্যতা কম হওয়ায় এখন তেলবাহী বড় জাহাজগুলো সরাসরি খালাস করা সম্ভব হয় না। বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করে ছোট লাইটারেজের মাধ্যমে তেল খালাস করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ খালাসে ১০-১১ দিন এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী জাহাজ খালাসে ৪-৫ দিন সময় লাগে।

 

গতানুগতিক এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাসের জন্য ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৫ সালের নভেম্বরে নেওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাইপলাইনে করে জ্বালানি তেল পরিবহনে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে নগরীর পতেঙ্গার মধ্যে সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

মহেশখালীর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এসপিএম প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসপিএম থেকে অফশোর পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথমে মাতারবাড়ি এলটিই পর্যন্ত এবং পরে সেখান থেকে অনশোর পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালী এলাকায় স্থাপিত স্টোরেজ ট্যাংকে তেল জমা হবে। পরে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের দুটি পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল নগরীর ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অবস্থিত স্টোরেজ ট্যাংকে আনা হবে।

 

এসপিএম প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৭ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে চীন সরকার। এছাড়া বিপিসি ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৬০১ কোটি টাকা দিচ্ছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। প্রকল্পের অধীনে এক সেট এসপিএম-পিএলইএম, একটি ভাসমান ভয়া, ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন, ২ লাখ ৮৮ হাজার ঘনমিটারের ছয়টি স্টোরেজ ট্যাংক, তিনটি ব্লক ভালব স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কারিগরি তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে এসপিএম প্রকল্প। এতে পরামর্শক হিসেবে সহায়তা দিচ্ছে জার্মান প্রতিষ্ঠান আইএলএফ। এসপিএম চালু হলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বছরে সাশ্রয় হবে অন্তত ৮০০ কোটি টাকা। এখন ৪০ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা থাকলেও এসপিএম চালুর পর তা আরো ১০-১৫ দিন বাড়বে।

 

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট