চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩

সর্বশেষ:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

অনুপম চৌধুরী

কাগজসহ সবকিছুর দ্বিগুণ দামে বিপাকে প্রকাশক

চড়া দামের বাজারেও থেমে নেই বই প্রকাশ, প্রস্তুত প্রকাশক-লেখক

করোনা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, বৈশ্বিক মন্দায় কমবেশি প্রায় দেশের অবস্থাই খুব নাজুক। তৎমধ্যে বাংলাদেশও একই কবল থেকে রেহাই পায় নি। গত বছর-দুয়েকের মধ্যে সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেইসাথে বেড়েছে প্রকাশনা শিল্পের সবকিছু। গত বছরের তুলনায় এবছর কাগজ, প্লেট, ছাপাখরচ, বাইন্ডিংসহ সবকিছুর দাম দ্বিগুণেরও বেশি।

 

আর তিনদিন পরই আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম-সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২১ দিনব্যাপী প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকার বইমেলা শুরু হয়েছে। এই চড়া দামের বাজারেও থেমে নেই বই প্রকাশ। বইমেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুত চট্টগ্রামের প্রকাশনা। নগরীর কদম মোবারকের প্রেসগলি গেলেই বুঝা যায় কি পরিমাণ ব্যস্ত প্রকাশনার সাথে জড়িত সবাই। শেষ সময়ে চলছে বই বাইন্ডিং। রাতদিন পরিশ্রম করেও অনেক বই মেলার মাঝখানে বইমেলার মুখ দেখবে।

 

প্রতিবছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম থেকে পাঁচশ’র অধিক বই প্রকাশ পাচ্ছে। চট্টগ্রামে উন্নতমানের প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে- বাতিঘর, বলাকা, খড়িমাটি, চন্দ্রবিন্দু, অক্ষরবৃত্ত, শৈলী, দাঁড়িকমা, নন্দন, তৃতীয় চোখ, প্রিন্টপুকুর, আবির প্রকাশন, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন ইত্যাদি। প্রায় প্রকাশকই সবকিছুর দাম বাড়তির কারণে নানা সমস্যায় পড়েছেন, পড়তে হয়েছে। তবুও তারা আশাবাদী। চট্টগ্রামের বইমেলাকে জমজমাট করতে মেলার প্রথমদিন থেকেই সব বই মেলায় আনতে মরিয়া তারা। পুরোদমে চলছে বাইন্ডিং এর কাজ। বইমেলার সামগ্রিক দিক নিয়ে বাতিঘর প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী দীপংকর দাশ বলেন, ‘কাগজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হলেও বইয়ের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩০%। সবকিছুর মতো বইয়ের দামেও পাঠক অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন আশাকরি।’

 

চন্দ্রবিন্দুর স্বত্বাধিকারী মঈন ফারুক বলেন, ‘কাগজের দাম মূল সমস্যা। এতোটা বৃদ্ধি কখনো হয়নি। আঠারোশ টাকার কাগজ এখন ৪৪০০ টাকা। এগারোশ টাকার কার্ড ছাব্বিশ’শ টাকা। বাইন্ডিং বোর্ড ৩০/৩২ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৬৫/৭০ টাকা। সেইসাথে ছাপা ও অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তি। কিছু বই বাইন্ডিং বাকি আছে। নতুন বই ছাপার বাকি নেই। রিপ্রিন্ট বই আছে ছাপায়। সেগুলোর কাজ চলছে।’ তৃতীয় চোখ প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী আলী প্রয়াস বলেন, ‘কাগজের দাম নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। সপ্তাহে তিন দফাও কাগজের দাম বেড়েছে। লেখকদের সাথে প্রকাশকদের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। বইয়ের দাম দ্বিগুণ বাড়ছে। এই দাম বাড়ায় মুদ্রণশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অর্ধেক বই বাজারে এসেছে, কিছু বাইন্ডারখানায় কাগজের দামের কারণে ছাপাতে পারছি না।’

 

চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী চৌধুরী ফাহাদ বলেন, ‘কাগজের দাম মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে বইয়ের প্রোডাকশন খরচ বেড়ে যাওয়া অবশ্যই একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। কাগজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকাশকদের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এর প্রভাব তো বইয়ের মূল্যের উপর পড়বেই। তারপরও পাঠকের কথা চিন্তা করে আমরা চেষ্টা করেছি বইয়ের মূল্য মিনিমাম রাখার। প্রতিবছরের মতো এইবছরও বইমেলার প্রথম দিন থেকেই আমাদের সবকটি বই পাঠকের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে।’

 

৮ ফুট বাই ৮ ফুটের স্টলের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর ডাবল স্টলগুলোর ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা । প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা আর বন্ধের দিন সকাল থেকে চলবে বইমেলা।

এবারের মেলায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, বাংলা একাডেমি ও শিশু একাডেমিকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মেলায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু কর্নার, স্মার্ট বাংলাদেশ কর্নার, মিডিয়া কর্নার, লেখক আড্ডার আয়োজন করা হবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে।

 

পঁচাত্তর পূর্ববর্তী একটা সময় প্রকাশনার দিক দিয়ে এগিয়ে ছিলো চট্টগ্রাম। ভারতীয় লেখকদের বই ছাপানো হত চট্টগ্রামে। মাঝখানে কিছুদিন ঝিমিয়ে পড়লেও বেশ কয়েক বছর যাবৎ আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরেছে চট্টগ্রামের বইমেলা। প্রকাশকদের হাতে তেমন একটা সময় নেই। বরাবরের মতো এ বছরও নতুন বইয়ে ভরে যাবে মেলা প্রাঙ্গণ। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত ক’বছর ধরে এ মেলা বেশ জমে উঠেছে। ঢাকার পর লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের চোখ এই বইমেলায়। আগে লেখকরা রাজধানীকেন্দ্রিক বই করত। এখন চট্টগ্রামেও সারাদেশের সাথে পাল্লা দিতে পারে এমন উন্নতমানের প্রকাশনার জন্ম হয়েছে। আগামীতে এরকম আরও প্রকাশনার জন্ম হবে।

 

লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে আলাপ করে এবং সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, চট্টগ্রামে বই বাঁধাই, মুদ্রণ ও সম্পাদনার কাজটি অনেকটাই পাল্টে গেছে। যে কারণে লেখকদের আস্থাও এখন চট্টগ্রামমুখী। শুধু এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে পাঁচ শতাধিক বই বের হচ্ছে। আরও কিছু বইয়ের কাজ বইমেলার আগে শেষ করতে পারবে না বলেও জানা যায়। এখানে সারাদেশের লেখকদের বই ছাপা হচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/ জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট