চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ চাইলেন সম্পাদকেরা

স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ চাইলেন সম্পাদকেরা

অনলাইন ডেস্ক

১০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:০৪ অপরাহ্ণ

স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া রাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়—এমন মত তুলে ধরেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা। শনিবার রাজধানীর বনানীর এক হোটেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তাঁরা বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে উগ্রবাদ মোকাবিলা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান আর্থিক খাতে দুর্নীতি রোধে বিশেষ কমিটি গঠন ও পুলিশ বাহিনীর নৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দেন। ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় সংকট ও পানিসমস্যাকে আগামী রাজনীতির অগ্রাধিকার করার তাগিদ দেন। মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী মব ভায়োলেন্স ও উগ্রবাদের হুমকির কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে হবে।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেননি আসলে কী হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় পক্ষের কথাকেই ইতিহাস হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন, যে কারণে তিনি ব্যর্থ হন। তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনার চারপাশের লোকজন আপনাকে যা বলছে, আপনি সেটাই শুনছেন। কিন্তু ১৭ বছরের প্রকৃত ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি আপনার কাছে বর্ণনা করব।

তারেক রহমান বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য এবং দেশ পরিচালনায় সমস্যার সমাধানে সহায়ক সমালোচনাই কাম্য। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের শীর্ষ সম্পাদক ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তারেক রহমান সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমালোচনা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়। এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, সংবাদের সম্পাদক আলতামাশ কবির, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, আজকের পত্রিকার সম্পাদক কামরুল হাসান, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাবর, বণিক বার্তার সম্পাদক হানিফ মাহমুদ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, ডেইলি সানের সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, সুরমার (লন্ডন) সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সম্পাদক সালেহ বিপ্লব।

বাসসের প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বিবিসির সম্পাদক মীর সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল-জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলমও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেড এম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, মাছরাঙার রেজওয়ানুল হক, ডিবিসির লোটন একরাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএন বাংলার হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এম এ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন-এর তুষার আবদুল্লাহ, ইনডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল এবং দলের চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

 

পূর্বকোণ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট