চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫

সর্বশেষ:

হুমকিতে পরিবেশ, ঝুঁকিতে জনজীবন

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ | ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতামুহুরী নদী, পাহাড়ি ঝিরি, খাল, ফসলের মাঠে গর্ত করে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। দিন-রাতে অবাধে বালি উত্তোলন করার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য।

 

শ্যালো মেশিন দিয়ে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উপজেলার লামা পৌরসভার মাতামুহুরী নদী, সরই ইউনিয়নের পলু, হরি, সরই, ডলু খাল এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা, পুকুরিয়া খোলা, বগাইছড়ি, লাইল্যারমারপাড়া, উত্তর মালুম্যা, বড় ছনখোলা, চাককাটা, পেতাইন্যাছড়া ও কমিউনিটি সেন্টারসহ ২৫টির অধিক স্থান থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে পাচার করা হচ্ছে।

 

জানা গেছে, লামার সরই ইউনিয়নে পাশের চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বন্ধ হয়নি বালি উত্তোলন। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিন্ডিকেট ও ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে। সরই ইউনিয়নের আমতলী, ধূইল্যাপাড়া, সালাম মেম্বারপাড়া, কিল্লারছড়া, বাগডেপা, পুলাং এলাকায় বালি উত্তোলন হচ্ছে। ওইসব খালে আজ নেই পানি ও স্রোত। নদী খাল হারাচ্ছে তার প্রকৃত রূপ। গতি হারিয়ে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক, ব্রিজ। বালি উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা।

 

বালি উত্তোলন ও পরিবহণে জড়িতরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। এ কারণে ভয়ে এলাকার লোকজন তাদেরকে বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না। গ্রামীণ সড়ক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাদি জমি রক্ষা করতে অবিলম্বে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। বালিমহাল আইন অনুসারে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, ছড়া, খাল বা নদীর তলদেশ থেকে বালি বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালি ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

 

অথচ সরজমিনে দেখা যায়, বালি মহাল আইন উপেক্ষা করে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক সংলগ্ন দুমছাবিল, ছালাম মেম্বার পাড়া, ডলুছড়ি বাজার, পুলাংপাড়া, বাগডেপা, ধূইল্যাপাড়া, কেয়াবন্যা, হাসনাভিটা, ডলুছড়ি বাজার পাড়া, ঝটকি বনিয়া পাড়া, আমতলী মুসলিমপাড়া, কিল্লাখোলাসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা আরও জানায়, বালি উত্তোলনের ফলে খালগুলোর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলে ফসলি জমি বিলীনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে খালগুলোতে পানি শুকিয়ে যায়। আবার উত্তোলিত বালি বড় বড় ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। উত্তোলিত বালি শুধুমাত্র লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালি তোলার কাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিনের চালক বলেন, চুক্তিতে তারা বালি উত্তোলন করছেন। তবে এই বালি উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি।

 

স্থানীয় গৃহবধূ নুরজাহান বেগম বলেন, খাল থেকে বালি তোলার কারণে পানি কমার পাশাপাশি ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আবার বালি পরিবহনের কারণে কেয়াজুপাড়া-সুয়ালক-লোহাগাড়া, ডলুছড়ি-পুলংপাড়া, লামা-কেয়াজুপাড়া, কিল্লাখোলা-পুটিবিলা সড়কের প্রায় স্থানের দু’পাশ দেবে গেছে। দ্রুত বালি পরিবহনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করা না হলে অচিরেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

 

পূর্বকোণ/ইব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট