চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ জনগণ

ইকবাল মুন্না, সাতকানিয়া

১৩ জুন, ২০২৪ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। মোবাইল ছিনতাই, বাজী ফুটিয়ে আতঙ্ক তৈরি, জায়গা দখল, মাদকব্যবসা ও সেবন চুরি, হঠাৎ যে কারো উপর হামলা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বেড়েছে কিশোর গ্যাং এর উৎপাত। গত এক মাসে কিশোর গ্যাংয়ের হাতেই ঘটেছে কয়েকটি ঘটনা। কথায় কথায় মারধর মোবাইল কেড়ে নেওয়া এটি নৈমিত্তিক। গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, উপজেলার কেরানিহাট, মা-শিশু হাসপাতাল, শপিং সেন্টার, এলাইট হাসপাতাল, নিউ মার্কেট বি-বøক, সিটি সেন্টার এবং রাস্তার মাথা এলাকায় ৬-৭জন বিশিষ্ট এই কয়েকটি কিশোর গ্যাং এর উৎপাত রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের অধিকাংশ সদস্যই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

 

 

স্থানীয় অনেক নেতা এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, ডিস ও নেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, অপহরণ, মারামারি, অস্ত্রবাজি, উত্ত্যক্তসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে আধিপত্য বজায় রাখতে কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। এদের লাগাম কোনোভাবেই টানতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় মো. নবী হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর মাথা ফাটিয়ে দেন ছিনতাইকারীরা।আহত ব্যক্তির থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে কেরানিহাট মেহফিল নামক একটি হোটেলের সামনে থেকে আয়াত উল্যাহ ও কায়েস নামের দুই নির্মাণ শ্রমিককে নুরুল ইসলাম মিয়া ও মো. শাকিলের নেতৃত্বে ৪/৫ যুবক ধরে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় নির্জন স্থানে তোলেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ও দুটি হাত ঘড়ি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের বিষয়টি আয়াত তাদের ঘনিষ্ঠজনদের জানালে পরদিন সকালে কেরানিহাটের পশ্চিমে মাইজপাড়া এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী নবী হোসেনসহ কয়েকজন মিলে ঘটনায় জড়িতদের বাড়িতে গিয়ে ছিনতাই করা মোবাইল ও হাত ঘড়ি ফেরত দিতে বলেন।

 

 

এসময় নবী হোসেন যুবকদের ছিনতাইসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাইজপাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী নবী হোসেনের উপর হামলা চালান। এতে মাথা ফেটে নবী গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। এদিকে গত ৪ জুন সাতকানিয়া কেরানিহাট ইউনিয়নের কেরানিহাট মা ও শিশু হসপিটালের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মো. শহিদুল আলম ওরফে শফি আলম নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।ঘটনার পর শহিদুলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শহিদুল (৩৫) উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী পাড়ার আসহাব ছেলে।

 

 

শহিদুল জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি কেরানিহাট মা ও শিশু হসপিটালের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার ইকবালের নেতৃত্বে দু- -তিনজন ছেলে এসে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে তিনি ইকবালকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। এ সময় সে তার কোমরে থাকা ছুরি দিয়ে তাঁর পেটের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পাশের মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগ আছে কক্সবাজার এবং চকরিয়া থেকে ব্যবসায়ীরা যখন সাতকানিয়া রাস্তারমাথা এলাকায় বাস থেকে নামে তখন সেখানে ওৎ পেতে থাকে কিছু কিশোর গ্যাং এর সদস্য।

 

 

মুহূর্তে ব্যবসায়ীদের মোবাইল এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায় তারা। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং মূলহোতাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা সাতকানিয়ায় কিশোরে গ্যাং এর মূলহোতাদের শনাক্তের জন্য কাজ করছি। আশা করি খুব তারাতারি এই সমস্যাটি সমাধান হবে। আমাদের পুলিশ বিশেষ দল এটি নিয়ে কাজ করছে।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট