চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

গণভবন হচ্ছে স্মৃতি জাদুঘর: চব্বিশের ইতিহাস সংরক্ষণে বিল পাস

গণভবন হচ্ছে স্মৃতি জাদুঘর: চব্বিশের ইতিহাস সংরক্ষণে বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক

১০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৯:৩১ অপরাহ্ণ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের লক্ষ্যে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন।

 

সংস্কৃতিমন্ত্রী বিলটি উত্থাপনের সময় জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস এবং দলিলাদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ ও গবেষণার উদ্দেশ্যেই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকেই এই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়, যা ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুমোদন পায়।

 

বিলটি উত্থাপনের পর মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান এর ৮ ধারার ওপর তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব দেন। তার একটি প্রধান প্রস্তাব ছিল, জাদুঘরের পর্ষদ সভাপতি হিসেবে বাইরে থেকে মনোনীত কোনো বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এই সংশোধনীর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন যে, যেহেতু মন্ত্রণালয় এই জাদুঘরের কাজ দেখভাল করবে, তাই সভাপতির দায়িত্বও মন্ত্রণালয়ের প্রধানের কাছে থাকা যুক্তিযুক্ত।

 

সংশোধনী প্রস্তাবের সপক্ষে আনিছুর রহমান আবেগঘন বক্তব্যে জানান যে, তিনি নিজেও এই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং এই স্মৃতি জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এই সংশোধনীর বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, বিলটি যেভাবে উত্থাপিত হয়েছিল সেভাবেই পাস করা হোক এবং প্রয়োজনে পরে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধন আনা হোক। তবে লিখিত সংশোধনী না থাকায় স্পিকার এই আপত্তি গ্রহণ করেননি।

 

সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সংশোধনীগুলো গৃহীত হওয়ার পর বিলের বাকি ধারাগুলোও পাস হয়। সবশেষে স্পিকার সংশোধিত আকারে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো হুবহু পাসের সুপারিশ থাকলেও, এই বিলটিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে সংসদীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা হলো।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট