চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ফখরুল চান আমরা যুদ্ধে জড়াই : কাদের

অনলাইন ডেস্ক

১৯ জুন, ২০২৪ | ৮:২৩ অপরাহ্ণ

বিএনপি সরকারকে মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ‘উসকানি’ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

তিনি বলেছেন, উসকানির মুখে বাংলাদেশ যুদ্ধে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনায় সংকট সমাধানে বিশ্বাসী।

 

বুধবার সচিবালয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কাদের।

 

তিনি বলেন, “বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চাইছেন আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ি। তাদের উসকানির ফাঁদে আমরা পড়তে পারি না। আমরা সরকারে আছি, আমাদের দায়িত্ব আছে, কর্তব্য আছে। সার্বভৌমত্ব চলে গেলে আমাদেরই ব্যথা লাগবে বেশি। কারণ এ জাতির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার লড়াইয়ে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

 

কাদের বলেন, “সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে, আলাপ-আলোচনার সময় পেরিয়ে যদি যায়, যদি সত্যিই তারা (মিয়ানমার) আক্রমণে আসে, তখন কি আমরা বসে থাকব? আমরা বসে বসে আঙুল চুষব? আমাদেরও পাল্টা জবাব দিতে হবে।”

 

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা নিয়ে এ সময় সংশয় প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কাদের।

 

তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল তখন (মুক্তিযুদ্ধের সময়) কী করেছেন, কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, তা জানি না। এসব কথা বলে লাভ নেই। সার্বভৌমত্ব ঠিক আছে।”

 

নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্টে সেন্টমার্টিনগামী ট্রলারে মিয়ানমার অংশ থেকে গুলি করার একাধিক ঘটনার খবর গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যমে আসে। সেই সঙ্গে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে দেশটির বড় একটি জাহাজ দেখা যাওয়ার খবরও আসে। সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণ ও ভারি গুলিবর্ষণের শব্দ এপার থেকেও শোনা গেছে।

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি গত এক মাস শান্ত থাকলেও নতুন করে গোলাগুলির এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

গুলির ঘটনার পর সেন্ট মার্টিনের সঙ্গে টেকনাফ ও কক্সবাজারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহন শুরু হয়। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে টহল বাড়ায় বিজিবি।

 

সেন্টমার্টিনের ঘটনাপ্রবাহে সরকার ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে’ বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। এ বিষয়ে কাদের বলেন, “বিরোধী দলের একটা ভাষা আছে, সরকারি দলের সিদ্ধান্তকে তারা নতজানু আখ্যায়িত করে। কিন্তু কীভাবে নতজানু, সেটা একটু ব্যাখ্যা করে দিক না। সেন্টমার্টিনে যে গুলিটা এসেছে, সেটা মিয়ানমার সরকার করেনি। এটা আরাকান আর্মি নামের যে বিদ্রোহীরা আছে, তাদের গুলি।”

 

সমস্যায় পড়তে সরকারকে বারবার উসকানি মোকাবিলা করতে হয়েছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, “সেখানে যে জাহাজের কথা বলা হয়েছে সে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবশেষ যখন রোহিঙ্গারা স্রোতের মত বাংলাদেশে ঢুকেছিল, তখনও অনেকে উসকানি দিয়েছিল। আমাদের আকাশসীমা কখনো কখনো অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ওয়াশিংটনে। তখন বাহিনী প্রধানদের তিনি ফোন করে নির্দেশ দেন, যে কোনো অবস্থায় আমরা যেন যুদ্ধে না যাই। মিয়ানমার উসকানি দিলে আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করব। একটা সমাধান বের করব, যুদ্ধে জড়াব না।”

 

এখনো বাংলাদেশে কোনো আক্রমণ হয়নি মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “তাদের (মিয়ানমার) অভ্যন্তরীণ ৫৪টি গোষ্ঠী আছে। ওদের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা। আমরা সীমান্তে আছি, গুলি এসে লাগতে পারে, গুলির আওয়াজ আসতে পারে, এটা সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন না। তাদের নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহীরা আছে। তাদের থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে। সেটার জন্য কেন মিয়ানমার সরকারকে দায় দেব? যতদিন সম্ভব শেষ পর্যন্ত আমরা দেখব।”সূত্র : বিডিনিউজ

 

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট