চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ফ্ল্যাট-জমির কর কমানোর চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধনে কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পর এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ায় এখন নিবন্ধন কর ফের কমানোর চিন্তা ভাবনা করছে এনবিআর। এ জন্য চলতি অর্থবছরে উচ্চ কর আরোপের পর জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের বাস্তব চিত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে এনবিআর’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

২০২৩-২০২৪ অর্থবছর থেকে জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধনে কর দ্বিগুণ করার পাশাপাশি জমির ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ বা তার বেশি শতাংশ হারে গেইন ট্যাক্স আরোপ করা হয়। এরপর থেকে জমি-ফ্ল্যাট মালিকরা স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। এতে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতে রাজস্ব আয় কমেছে ২০-৩০ শতাংশ।

 

এনবিআর’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ কর আরোপের পর জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের বাস্তব চিত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাধারণত যারা জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করেন তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মালিকের কাছ থেকে মালিকানা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ­রেজিস্ট্রেশন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। আমরা এসব বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছি।

 

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে এই খাত থেকে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় হয়নি। অর্থাৎ এই খাত থেকে রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে আছি আমরা। তাই এনবিআর করের মাত্রা সহনশীল করতে চায়। সেক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে নিবন্ধনে উৎসে কর নতুন নিয়ম অনুযায়ী থাকবে।

 

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ‘উৎসে কর বিধিমালা’ অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের সকল এলাকার সম্পত্তি নিবন্ধন কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি বা জমি ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর হোক না কেন মালিকানা অর্জন করতে দ্বিগুণ কর গুনতে হবে। অর্থাৎ যে এলাকায় রেজিস্ট্রেশনে ১, ৩ ও ৪ শতাংশ কর ছিল তা বৃদ্ধি করে ২, ৬ ও ৮ শতাংশ করা হয়েছে।

 

আয়কর বিধিমালার ‘সম্পত্তি হস্তান্তর হতে কর আদায় শীর্ষক’ ৬ নং ধারা অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি নিবন্ধন কর ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৮ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকা ও জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা এলাকায় ওই কর ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬ শতাংশ করা হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের যে কোনো পৌরসভার আওতাধীন সম্পত্তি কর ২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ এবং বাকি এলাকাগুলোতে ১ শতাংশ থেকে কর বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট