চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

স্কুলছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

সাভারে ‘দ্বিতীয় পাপিয়া’ মিশু গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

১৯ আগস্ট, ২০২৩ | ১১:০৪ অপরাহ্ণ

সাভারে এক স্কুলছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মেহেনাজ তাবাচ্ছুম মিশু নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শাহানাজ গার্ডেন এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

শনিবার সকালে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মেহনাজ মিশু ও তার কথিত স্বামী আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে মামলা রুজু হয়।

 

আসামিরা সাভারের গেণ্ডা বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহানাজ গার্ডেন গলির বাসিন্দা। এ ঘটনায় মিশু গ্রেপ্তার হলেও আতিক পলাতক।

 

অভিযুক্ত মেহনাজ মিশু যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডেইজি সারওয়ারের স্বাক্ষর জাল করে ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে যুব মহিলা লীগের কোনো কমিটিতে তিনি নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ডেইজি সারওয়ার।

 

তিনি বলেন, আগের কমিটিতে ঢাকা জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকতে পারে। সেটাও লোকমুখে শুনেছি। তবে কোনো কমিটিতে তার নাম পাইনি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা যুব মহিলা লীগের পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করতেন মেহনাজ শিশু। পূর্বপরিচয় ও প্রতিবেশীর সূত্র ধরে ভুক্তভোগীকে কৌশলে ২৪ মে তার বাসায় নিয়ে যান। গভীর রাতে ছাত্রীকে বাসায় বিবস্ত্র করে ছবি তুলে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।

 

এ সময় আতিক ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। স্কুলছাত্রীর শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দেওয়া এবং নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়। পরে তাকে পাঁচ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

 

স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত মিশু ভুক্তভোগীকে ঘটনা কাউকে না জানাতে হুমকি দেন এবং সে (স্কুলছাত্রী) নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল বলে সবাইকে জানাতে বলেন। ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে বাসায় নিয়ে যান।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিশু এলাকায় ‘মাফিয়া’ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। নিজে একাধিক বিয়ে করেছেন বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্কুলছাত্রী, নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন। অবাধ্য হলে নিজস্ব ‘টর্চার সেলে’ নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় তাদের। এলাকায় তিনি ‘দ্বিতীয় পাপিয়া’ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে করে আসছেন এসব অপকর্ম।

 

সাভার মডেল থানার পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মেহনাজ মিশুকে আটক করা হয়। ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ছবি সংরক্ষণ, অনৈতিক কাজে বাধ্য করাসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে পাঁচ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, মামলায় মেহনাজ মিশুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আসামি আতিক পলাতক।

 

উল্লেখ্য, নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আলোচিত যুব মহিলা লীগের সাবেক নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া সাজাভোগে কারাগারে আছেন।

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট