চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

এটা তো ভুল নয়, আপনি অপরাধ করেছেন: কক্সবাজারের জজকে হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক

২০ জুলাই, ২০২৩ | ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আপনি একজন সিনিয়র জেলা জজ। দীর্ঘদিন বিচারকাজ করেছেন। আপনি আদালতের আদেশ টেম্পারিং করেছেন। এতে আপনার বুক কাঁপল না? টেম্পারিং করে আপনি ভুল করেননি, জেনে-বুঝে আপনি ক্রাইম করেছেন।’

 

বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) এক শুনানিতে এসব কথা বলেন।

 

আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে করা এক মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে আজ হাইকোর্টের এই বেঞ্চে হাজির হন মোহাম্মদ ইসমাইল। দ্বিতীয় দিনের মত আদালতে উপস্থিত হন তিনি। নিঃশর্ত ক্ষমা ক্ষমা চেয়ে নতুন করে একটি আবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেন মোহাম্মদ ইসমাইলের আইনজীবী।

 

শুনানির একপর্যায়ে হাইকোর্ট মোহাম্মদ ইসমাইলের দেওয়া আদেশের অংশবিশেষ আইনজীবীদের দেখতে বলেন। হাইকোর্ট বলেন, আদেশে কিছু পরিবর্তন করতে হলে সব পক্ষকে ডেকেই করতে হয়। হাইকোর্টে আসার আগেই তিনি তাঁর আদেশ কেটেছেন।

 

এ সময় মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘আদেশে দুটি শব্দ ভুল হয়েছে। এ জন্য মাফ চাই। দুঃখিত।’

 

হাইকোর্ট বলেন, ‘আপনি খণ্ডন (আদেশ) করতে চাচ্ছেন? আপনার মনে অনুতাপ দেখি না। আপনি বাধ্য হয়ে বলছেন। অন্তর থেকে আসেনি। অন্তর থেকে আসতে হবে।’

 

শুনানির একপর্যায়ে মোহাম্মদ ইসমাইলের অপর আইনজীবী আদালতে সাত দিনের সময়ের আরজি জানান। আদালত ২৭ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ রাখেন।

 

আজ আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

 

জমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভয়ভীতি দেখানো ও আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ ভুট্টোসহ নয়জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম রিনা।

 

গত ১১ এপ্রিল ওই মামলায় আসামিরা হাই কোর্টে আগাম জামিন চাইলে তাদের ছয় সপ্তাহের জামিন দেয় আদালত। সেই মেয়াদ শেষে গত ২১ মে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে বিচারিক হাকিম আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

 

কিন্তু একইদিন আসামিরা কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন এবং তাদের আবেদন মঞ্জুর হয়।

 

ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করেন চেয়ারম্যান রিনা। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজকে তলব করে হাইকোর্ট।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট