চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকা অফিস

১৭ জুন, ২০১৯ | ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালত থেকে জামিন নেওয়ার আশায় টানা কুড়ি দিন আত্মগোপনে ছিলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার আলোচিত সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এমন কি দাড়ি-গোঁফ রেখে চেহারাটা পাল্টানোর চেষ্টাও করেন। এতকিছুর পরও শেষ রক্ষা হলো না মোয়াজ্জেমের। গতকাল ঢাকার আদালত চত্বর থেকে ফিরে আসার পথে জাতীয় প্রেসক্লাবের পাশে কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে, দুপুরে কৌশলে আদালতে প্রবেশ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদনও করেছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট সংলগ্ন কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। পরে ফেনীর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলা তারা তদন্ত করছেন, তাই তাদের কাছে ওসি মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তর করা হবে। উপকমিশনার আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তর করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে শাহবাগ থানায় রাখা হবে। অন্যদিকে ঢাকা সাইবার ট্রাইবুনালের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে আজ সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনালে নেওয়া হবে।
জানা যায়, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-সামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত ক’দিন থেকে তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম। এর আগে, গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট