
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে কোনও চুক্তি হবে না। শনিবার এক বার্তায় তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজা আরিফ লিখেছেন, ‘যদি আমাদের এমন প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হতে হয় যারা ‘ইসরায়েল প্রথম’ নীতিতে বিশ্বাসী, তবে কোনও চুক্তি হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা অনিবার্যভাবে আগের চেয়ে আরও জোরালোভাবে আমাদের প্রতিরক্ষা বজায় রাখব এবং বিশ্বকে আরও বড় চড়া মূল্য দিতে হবে।’
তবে এর বিপরীত হলে উভয় পক্ষ এবং বিশ্বের জন্য উপকারী একটি চুক্তি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে দুটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থান করছে।
গত বুধবার থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার লেবাননে এক দিনে নিজেদের বৃহত্তম হামলা চালায় ইসরায়েল, যাতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও ১১শ’র বেশি মানুষ আহত হয়।
শুক্রবার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে অবশ্যই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে।
শনিবার সকালে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ওয়াশিংটন ইরানের সম্পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে এবং ইরানি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থ লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে।
পূর্বকোণ/পারভেজ