চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

পবিত্র হজ আজ

কামাল পারভেজ অভি, সৌদিআরব প্রতিনিধি

১৫ জুন, ২০২৪ | ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আজ (শনিবার) পবিত্র হজ। মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৮০টি দেশের ২০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ পালন করছেন।

 

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল-হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক, লা শারীকা লাক’- অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোন শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই। এই তালবিয়াহ উচ্চারণ ও মহান আল্লাহ তা‘আলার এককত্ব ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণায় আকাশ-বাতাস মুখর করে ২০ লক্ষাধিকের বেশি হজযাত্রী আজ (শনিবার) মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হজ্জের স্মৃতিবিজড়ি আরাফাত ময়দানে সমবেত হবেন। শ্বেতশুভ্র পোশাকে আবৃত এসব হজযাত্রী জাবালে রহমতের পাদদেশ ও মসজিদে নামিরার আশপাশে অবস্থান নিয়ে জীবনের পরম কাঙ্ক্ষিত হজ পালন করবেন। মূলত এ দিনটির জন্যই পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন সক্ষম মুসলিমরা।

 

গতকাল (শুক্রবার) হজযাত্রীরা মিনায় পৌঁছেছেন। সেখান থেকে আজ মোয়াল্লিমরা গাড়িতে করে নিয়ে যাবেন আরাফাতে নির্ধারিত তাদের তাঁবুতে। তাদের সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হবে। এটাই মূলত হজ। আল্লাহর নবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল-হাজ্জু আরাফাহ। অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হচ্ছে হজ। এখানে হজযাত্রীদের ফজর ছাড়াও জোহর ও আসর নামাজ আদায় করতে হবে।

 

আজ স্থানীয় সময় দুপুরে ঐতিহাসিক আরাফাত প্রান্তরে অবস্থিত মসজিদে নামিরায় বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে হজের খুৎবা দেবেন পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়েখ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্কল আল মুয়াইকিলি।

 

পবিত্র কোরআনের অসাধারণ তিলাওয়াতের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শায়েখ মাহের বিন হামাদ। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে এ বছর হজের খুতবার জন্য তাকে নিযুক্ত করেন।

 

হজের ভাষা অনুবাদে নতুন মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে সৌদিআরব। এবার বাংলাসহ হজের খুতবা রেকর্ড ৫০টি ভাষায় অনুবাদ করা হবে।

 

সারা বিশ্বের মানুষের কাছে হজ ও ইসলামের শান্তির বাণী পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে এটিই এখন পর্যন্ত হজের খুতবা অনুবাদের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট। আর এ অনুবাদ খুতবা চলাকালীন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের অন্তত এক বিলিয়ন মানুষ সরাসরি শুনতে পাবে।

 

এবছর বাংলায় খুতবা অনুবাদ করবেন সৌদিতে অবস্থান করা চার বাংলাদেশি- মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান মাক্কী ও মুবিনুর রহমান ফারুক এবং জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাজমুস সাকিব।

 

আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থানের মাধ্যমে হজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সেখানে তারা মহান আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে জীবনের সব গুনাহের ক্ষমা চাইবেন। এজন্য মোয়াল্লিমদের পক্ষ থেকে হাজি সাহেবদের বিভিন্ন কর্নারে গিয়ে একা একা দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়। হজযাত্রীরা তাদের বিভিন্ন অপরাধের কথা স্মরণ করে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইবেন। এখানে গুনাহ মাফ না হলে তার চেয়ে দুর্ভাগা পৃথিবীতে একটিও থাকবে না। আর গুনাহ মাফের মাধ্যমে তারা হয়ে উঠবেন বেগুনাহ বা মাসুম।

 

সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিব না আদায় করে হাজি সাহেবদের যাত্রা শুরু হবে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে। সেখানে যাওয়া মাত্র মাগরিব ও এশা এক আজানে, দুই ইকামাতে আদায় করবেন তারা। এরপর মুযদালিফায় মসজিদে মাশআরিল হারামের আশপাশে উন্মুক্ত আকাশের নিচে মাথা খোলা অবস্থায় রাত্রীযাপন করবেন হজযাত্রীরা। পরের দিনগুলোতে জামারাতে নিক্ষেপের জন্য এখান থেকেই পাথর সংগ্রহ করেন হজযাত্রীরা। এজন্য বিশেষ ধরনের ছোট ছোট পাথর রাখা হয় পুরো মুযদালিফাজুড়ে।

 

১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর আবার মিনায় ফিরে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পূর্বে বড় জামারাতে ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ, কোররবানি সম্পন্ন করার পর মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম পরিত্যাগ করবেন হাজিরা। সুযোগ বুঝে মক্কায় গিয়ে ফরজ তাওয়াফ করতে হবে ৩ দিনের মধ্যে। ১১ ও ১২ জিলহজও হাজি সাহেবদের সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর ৩টি জামারাতে ৭টি করে মোট ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। যারা সংক্ষেপ করতে চান ১২ যিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন।

 

পরে মক্কায় ফিরে বিদায়ের দিন বিদায়ী তাওয়াফের পূর্ব পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে প্রতি ওয়াক্তের নামাজ ও যত বেশি সম্ভব তাওয়াফে সময় কাটাবেন মুসল্লিরা।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট