চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেব: ডিসি জাহিদ

অনলাইন ডেস্ক

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ঈদ বা পূজার সময় যেমন ঢাকা থেকে মানুষের স্রোত নেমে যায়, তেমনি এবারও ভোট দিতে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

 

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনী মালামাল কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা কোনো কেন্দ্রকে আলাদাভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছি না। প্রতিটি কেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।” তাঁর ভাষ্য, কোনো কেন্দ্র থেকে কোনো ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। “দ্রুত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।”

 

তিনি বলেন, “সরকারের সব বিভাগ—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, র‍্যাব, বিজিবি—একই গতি ও একই স্পিরিট নিয়ে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য জাতিকে একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন উপহার দেওয়া।”

 

আনোয়ারা উপজেলায় একটি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরা চুরির ঘটনায় তিনি বলেন, ক্যামেরাটি ভাঙচুর করা হয়নি, সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে তা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। কেন এবং কীভাবে এটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁরা বিশ্বাস করেন, এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। “রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেবে, কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা যারা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে আছি, আমরা জেতাতে চাই বাংলাদেশকে; জেতাতে চাই মানুষের প্রত্যাশাকে।”

 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অনেক মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পূর্ণতা পায়নি। এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার নির্বাচন। “আমরা সামরিক ও বেসামরিক সব কর্মকর্তা একই স্পিরিট ও গতিতে কাজ করছি একটি গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে।”

 

জাহিদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া, রাউজানসহ বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শন করা হয়েছে। ব্যালট পেপার যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না, প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের ব্যবস্থা—এসব বিষয় সরেজমিনে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভোটাররা যাতে অযথা অপেক্ষা না করেন, সে বিষয়েও আমরা নজর দিচ্ছি।”

 

বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল ও মনিটরিং সেল থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।

 

তিনি বলেন, “অতীতে নির্বাচনকে ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবার আমরা নিরপেক্ষতার মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর।”
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে।

 

আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে। টিমের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শন করক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রাঙ্গুনিয়ার ব্রহ্মোত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , ইউনুছিয়া তাজভীদুল কুরআন মাদরাসা , রাউজান মহিলা মাদ্রাসা নতুন ভবন—পুরুষ কেন্দ্র এবং পুরাতন ভবন—মহিলা কেন্দ্র ।

 

পরিদর্শনকালে নির্বাচনী মালামাল সংরক্ষণ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি, ভোটকক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রতিপালনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা প্রত্যয় ব্যক্ত করছি—এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য, মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।”

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট