
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছে ১৩ আসনে। ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল দলটি। দুটি আসন জোট প্রার্থীদের ছাড় দেওয়া হয়। জামায়াতদলীয় প্রার্থীরা নিজের টাকা ছাড়াও নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করবেন স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের ধার-কর্জ এবং দান-অনুদানে।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দিতে হয়। এতে প্রার্থী ও প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের আয়-সম্পদের বিবরণ জমা দিতে হয়। আলাদা ফরমে নির্বাচনী সম্ভাব্য ব্যয় ও অর্থ প্রাপ্তির উৎস জমা দিতে হয়। সেই ফরম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১২ জন প্রার্থী নিজের টাকা ছাড়া স্ত্রী-সন্তান, ভাই-ভায়রা ভাই শ^শুর-শাশুড়িসহ আত্মীয়-স্বজনের দান ও ধার-কর্জে ভোটের ব্যয় নির্বাহ করবেন। এছাড়া শুভাকাক্সক্ষীদের কাছ থেকেও ধার-অনুদান নেবেন। আগে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। এবার আরপিও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার আরপিও মতে, একজন প্রার্থী নির্বাচনী এলাকার ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে ব্যয় করতে পারবেন। সেই হিসাবে নির্বাচনী ব্যয় আসনভেদে ভিন্ন ভিন্ন হবে। ব্যয়সীমা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে।
জামায়াতদলীয় প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর নগদ রয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৫২ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
তিনি ব্যবসা থেকে নির্বাচনে খরচ করবেন ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৯০ টাকা। দুই ভাই ও ভায়রা ভাই থেকে নেবেন ২৪ লাখ টাকা। আত্মীয় ছাড়া আরও তিন ব্যক্তি তাকে ১৬ লাখ টাকা অনুদান দেবেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের বার্ষিক আয় ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫০৭ টাকা। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি টাকার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার।
ডা. রেজাউল নির্বাচনে চিকিৎসা পেশা থেকে ব্যয় করবেন ১০ লাখ টাকা। চিকিৎসক স্ত্রী, ভাগ্নে, ভায়রা ও শ্যালিকা থেকে দান হিসেবে নেবেন ১২ লাখ টাকা। স্বজন ছাড়া আরও তিন ডাক্তারের কাছ থেকে অনুদান নেবেন ৮ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমানের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৮৭ হাজার ২শ টাকা। নির্বাচনে নিজের আইন পেশার আয় থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ টাকা। ভাই ও ভগ্নিপতির কাছ থেকে অনুদান নেবেন ৪ লাখ টাকা। আত্মীয় ছাড়া আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান নেবেন ৫ লাখ টাকা। এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেবেন।
চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১২ হাজার ৬৪ টাকা। তিনি নিজের জমানো টাকা থেকে নির্বাচনে খরচ করবেন ২০ লাখ টাকা। স্ত্রী ও মেয়ে তাকে ১৫ লাখ টাকা দান করবেন। স্বজন ছাড়া তিন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান নেবেন ৭ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের নগদ অর্থ রয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকার। ব্যাংকে জমা রয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩১ টাকা। প্রায় ৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে এই প্রার্থীর।
তার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯১১ টাকা। নির্বাচনে নিজের জমানো টাকা থেকে খরচ করবেন ২০ লাখ টাকা। ভাই ও শ^শুরের কাছ থেকে ধার নেবেন ১০ লাখ টাকা। স্বজন ছাড়া আরও দুই ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান নেবেন ১০ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর বার্ষিক আয় চার লাখ ৮০ হাজার টাকা। নির্বাচনে নিজের জমানো টাকা থেকে খরচ করবেন ৫ লাখ টাকা। তার ভায়রা ভাই ৫ লাখ টাকা দান করবেন। স্বজন ছাড়া অন্য দুই ব্যক্তি তাকে ১০ লাখ টাকা দান করবেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী ডা. আবু নাছেরের বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ১০১ টাকা। স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮০৩ টাকা। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ১০১ টাকা। স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮০৩ টাকার।
তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছেন ৩০ লাখ টাকা। নিজের পেশা ও বেতন থেকে আয় নির্বাহ করবেন। এছাড়া ভাই ও ভায়রা ভাই থেকে দান হিসেবে পাবেন ৭ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী পেশায় ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৩২ হাজার ৭২৩টাকা।
তিনি নিজের ব্যবসা থেকে নির্বাচনে খরচ করবেন ১২ লাখ টাকা। ভগ্নিপতির কাছ থেকে ধার নেবেন ১০ লাখ টাকা। আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নেবেন ৫ লাখ টাকা। এছাড়া স্ত্রী ও বড় ভাই থেকে দান হিসেবে নেবেন ১৩ লাখ টাকা। আরেক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা দান করবেন।
চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীনের বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার।
তিনি নিজের জমানো ও সম্পদ বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা খরচ করবেন। এছাড়া দুই ভাই ও ভগ্নিপতির কাছ থেকে অনুদান পাবেন ১২ লাখ টাকা। আত্মীয়-স্বজন ছাড়া আরও দুই ব্যক্তি তাকে ৭ লাখ টাকা দান করবেন।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের মোহাম্মদ শফিউল আলমের বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। তার সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ২৩০ টাকার।
তিনি চাকরির বেতন থেকে খরচ করবেন ৫ লাখ টাকা। ভাই থেকে ধার নেবেন ১২ লাখ টাকা। শাশুড়ি থেকে অনুদান পাবেন ১০ লাখ টাকা। স্বজন ছাড়া আরেকজনের কাছ থেকে ধার নেবেন ১০ লাখ টাকা। আরেকজন দান করবেন ৭ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের বার্ষিক আয় ৫০ হাজার টাকা। নির্বাচনে নিজের জমানো টাকা থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ টাকা। ভাই থেকে ধার নেবেন দুই লাখ টাকা। ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দান পাবেন। স্বজনের বাইরে তিন ব্যক্তির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা অনুদান পাবেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৬ টাকা। ১ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
নির্বাচনে তিনি নিজের আয় থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ টাকা। দুই ভাই ও স্বজন ছাড়া আরও দুটি ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান নেবেন ২৫ লাখ টাকা।