
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন ও তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলা দুটির তদন্ত চলাকালে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সেটিও আমলে নেওয়া হবে।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রথম মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে-তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। একইসঙ্গে তার নামে মোট ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ থেকে ২০২১-২২ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ে জিয়াউল হক সুমনের গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৪ টাকা। অথচ ওই সময়ে তার মোট অর্জিত সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেশি।
ফলে তার আয়ের উৎসের সঙ্গে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় জিয়াউল হক সুমনের স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাঁর অর্জিত সম্পদ ও ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৬৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী জিয়াউল হক সুমনের সহায়তায় শাহানাজ আকতার এই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/পিআর