চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

কেন্দ্রীয় কমিটিতে দলে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে ওঠা ডা. শাহাদাত?

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটি

মোহাম্মদ আলী

২৫ জুন, ২০২৪ | ১২:৫১ অপরাহ্ণ

কমিটি ছাড়াই চলছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। গত ১৩ জুন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মহানগর আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার ১২ দিন পরও গঠন করা হয়নি নতুন কমিটি। ফলে কমিটি ছাড়াই চলছে মহানগরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। তাতে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

 

এদিকে, নতুন কমিটি নিয়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন দলের নেতারা। শোনা যাচ্ছে নানা মেরুকরণও। তবে নতুন কমিটি নিয়ে অনেকটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

 

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ডা. শাহাদাত হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে চলে যেতে অনেকটা আগ্রহী। কোন কারণে মহানগরের সভাপতি করা হলে একই সাথে তাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কিংবা যুগ্ম মহাসচিবের পদ দিলে তাতে তিনি আগ্রহ দেখাতে পারেন। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের সভাপতি হলে একই কমিটিতে আবুল হাশেম বক্কর পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি থাকবেন বলে জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র। আবার নতুন কমিটিতে যদি ডা. শাহাদাত হোসেন না থাকেন তাতে সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আবুল হাশেম বক্করের। এক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক পদে আসবেন নতুন মুখ। ইতোমধ্যে এ পদে বিএনপির ৫ থেকে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে।

 

বিএনপি সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর  মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর সবার নজরে আসেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তখন ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ দু’জনের নেতৃত্বে কয়েক বছর মহানগরের কার্যক্রম চলার পর কিছুদিনের জন্য মহানগরের এ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তখন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে আহ্বায়ক করে নতুন একটি কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি ও নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম বক্করকে সাধারণ সম্পাদক করে সংক্ষিপ্ত একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই ২৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এরপর ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩৯ সদস্যের এ কমিটিতে ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ দু’জন একত্রে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কারণে দলের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনেকটা কমে আসে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা মামলার শিকার হয়েছেন, যারা জেলে গেছেন, তাদের প্রতিনিয়ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এ কারণে কর্মীবান্ধব বলে পরিচিত ডা. শাহাদাত হোসেনের তৃণমূলে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসার কারণে দলের ভেতরে তার একটি শক্তিশালী অবস্থানও রয়েছে। অপরদিকে সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করেরও দলের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তিনিও সবসময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।

 

এদিকে, দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকের মতামত নিয়ে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সাইফুল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা নাজিমুর রহমান, বিএনপি নেতা ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, নগর যুবদলের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি- এই ৭ জনের মধ্য থেকেই নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। তবে কোন কারণে মহানগর কমিটিতে ডা. শাহাদাত হোসেন না থাকলে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।

 

জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, মহানগরে গত ১২ দিন ধরে বিএনপির কোন কমিটি নেই। কেন্দ্রের নির্দেশনায় আমরা দলের কর্মসূচিগুলো পালন করে যাচ্ছি। তাছাড়া আগামী কিছুদিনের মধ্যে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা বেশি।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট