চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

৯০ শতাংশ রক্তদাতাই তরুণ

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুন, ২০২৪ | ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় এক বড় ভাইকে দেখতাম তিনি নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন। তাকে দেখে আগ্রহ হলেও ভয় ছিল খুব বেশি। একবার সাহস করে রাজি হই। ভয়ে ভয়ে রক্ত দিতে যাই। তবে রক্ত দেয়ার পর সাহস অনেক বেশি বেড়ে যায়। সেই থেকে নিয়মিত রক্তদান করে আসছি। বিয়ে হয়েছে, এরপরও নিয়মিত রক্ত দিয়ে যাচ্ছি। কথাগুলো ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত রক্তদান করা সিমলা চৌধুরীর। এখন পর্যন্ত ২২ বার রক্ত দিয়েছেন এই তরুণী।

 

তারমতো অন্যের দেখাদেখিতে রক্তদানে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন বেসরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ফরহাদুল ইসলামও। তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন। এ পর্যন্ত ২০ বারের বেশি রক্তদান করেছেন তিনি। ফরহাদুল ইসলাম স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ‘কণিকা’র সভাপতিও।

 

একসময়ে রক্তের জন্য মানুষের ছুটোছুটি থাকলেও ফরহাদ-সিমলার মতো এখন অনেক তরুণই স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসছেন। এর বড় একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকাণ্ড। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান নেই, তবে রক্তদানে এবং রক্ত সংগ্রহের সঙ্গে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের বড় অংশই হচ্ছে তরুণ-যুবকরা। যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই হচ্ছে তারা।

 

চমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, প্রতিদিন হাসপাতালটিতে দুই শতাধিক মানুষের রক্ত আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে। যা মাসে ৬ হাজারেরও বেশি। কোন কোন সময় এ সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছায়। এত ব্লাডের বেশিরভাগই আসে স্বেচ্ছাসেবীসহ যুবক ও তরুণদের কাছ থেকে।

 

সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিটের তথ্য অনুসারে, শাখাটিতে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ হয়ে থাকে। বেশিরভাগই আসে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে। যাদের বেশিরভাগই হচ্ছে তরুণ ও যুবক। প্রায় ৯০ ভাগই স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে সংগ্রহকৃত।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ নারী ও পুরুষ রক্ত দিতে সক্ষম। এক্ষেত্রে পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি এবং নারীর ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৫ কেজি। এছাড়া রক্তদানের সময় রক্তদাতার তাপমাত্রা ৯৯.৫ ফারেনহাইটের নিচে থাকতে হবে। রক্তদাতার নাড়ির গতি ৭০ থেকে ৯০ এরমধ্যে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন প্রতি ডেসিলিটারে ১৫ গ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৪ গ্রাম হওয়া দরকার। রক্তদাতাকে অবশ্যই ভাইরাসজনিত রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং চর্মরোগ মুক্ত থাকতে হবে। এসব দেখে রক্ত নিলে ঝুঁকি কম থাকে।

 

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজ : রক্তদানের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক উৎসাহের পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য স্থানের ন্যায় দেশে আজ (শুক্রবার) পালিত হচ্ছে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। বিশ্বব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ১৪ জুন দিবসটি পালিত হয়। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দিবস উদযাপনের ২০ বছর: ধন্যবাদ হে রক্তদাতা!’।

 

দিবসটি পালন উপলক্ষে চট্টগ্রামের সরকারি বেসরকারিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে নানান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সন্ধানী চট্টগ্রাম ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া চমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগেও পালন করা হবে দিবসটি। বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি পালন করবে রেড ক্রিসেন্ট, লায়ন, কোয়ান্টামসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট