চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়ন

বাঘা শরীফের ‘বাঘা অর্জন’

জব্বারের বলী খেলা

মিটু বিভাস

১৪ মে, ২০২৪ | ১২:০৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার ১১৫তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার মো. শরীফ প্রকাশ বাঘা শরীফ। লালদিঘি ময়দানে ১১ মিনিটের লড়াইয়ের পর প্রতিপক্ষ একই জেলার মো. রাশেদ নিজেকে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নিলে বিচারক শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

 

প্রথমবার খেলতে এসেই বাজিমাত করলেন শরীফ। আর এর মধ্যে দিয়েই শেষ হয়ে গেল গত কয়েকবছর ধরে ফাইনালে চলতে থাকা শাহজালাল ও জীবন বলীর দ্বৈরথ।

 

গতকাল (বৃহস্পতিবার) বলী খেলা দেখতে প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে দুপুরের আগে থেকে ভিড় করতে শুরু করেন দর্শকরা। খেলা শুরুর আগে তপ্ত রোদের মধ্যে হাজার হাজার দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো লালদিঘি ময়দান। প্রথম রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল শেষে বিকেল ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয় কাক্সিক্ষত সে শিরোপার লড়াই। ১১ মিনিটের লড়াইয়ে একে অন্যকে পরাস্ত করতে পারেননি দুই প্রতিযোগী। ৫টা ৪০ মিনিটে ক্লান্ত রাশেদ নিজেকে সরিয়ে নিলে উচ্ছ্বাসে ভাসেন শরীফ।

 

কুমিল্লা জেলার হোমনা মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা শরীফ পেশায় একজন মাংস বিক্রেতা। শিরোপা জয়ের পর শরীফ বলেন, গুরু গতবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল ভাইকে নিয়ে বলী খেলায় অংশ নিতে এসেছিলাম। তিনি নিজে না খেলে আমাকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ। শরীফ জানান গত একবছর ধরে জব্বারের বলী খেলায় অংশ নিতে গুরু শাহাজালাল বলীর অধীনে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

 

উল্লেখ্য প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী আগের আসরের সেমিফাইনালিস্টদের সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। সে হিসেবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল বলী খেলার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সরে গিয়ে শরীফকে খেলার সুযোগ দেন। গতবারের রানার্সআপ তরিকুল ইসলাম জীবনও অসুস্থতার কারণে এবার নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তার পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান রাশেদ। কোয়ার্টার ফাইনালের বাকি দুইজন গত আসরের সৃজন চাকমা এবং নূর মোহাম্মদ।

 

এর আগে বিকাল সাড়ে চারটায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। হাজারো দর্শকের করতালি ও ঢাকের বাদ্যের তালে মঞ্চে নামেন একের পর এক প্রতিযোগী। প্রথম রাউন্ডে প্রতিটি জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসেন বিজয়ী। আর বিজয়ের সে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো লালদিঘিজুড়ে। প্রচন্ড গরমের মধ্যেও দর্শকরা ঢোলের বাদ্য আর করতালিতে তারা সমর্থন জোগাতে থাকেন বলীদের।

 

বিচারকরা প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে নির্ধারিত চারজনের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ করে দেন খাগড়াছড়ির বাবু ধন চাকমা, সীতাকুন্ডের রাসেল, কর্ণফুলী উপজেলার লিংকন দে ও রুবেলকে। কোয়ার্টার ফাইনালে শরীফ হারান নূর মোহাম্মদকে, রাশেদ হারান বাবু ধন চাকমাকে, রাসেল হারান লিংকন দে’কে এবং সৃজন চাকমা রুবেলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন।

 

প্রথম সেমিফাইনালে তিন মিনিটের লড়াইয়ে রাঙামাটির সৃজন চাকমাকে হারান রাশেদ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শরীফের কাছে ৫০ সেকেন্ডেই পরাস্ত হন রাসেল। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রাসেলকে মাত্র এক মিনিটেই পরাস্ত করেন সৃজন চাকমা।

 

খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের মাঝে ট্রফি এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেন। চ্যাম্পিয়নকে ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা ও চতুর্থ স্থান অধিকারীকে পাঁচ হাজার টাকা এবং প্রথম রাউন্ডের বিজয়ীদের দুই হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

 

এবারের বলী খেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও রাউজানের সংসদ সদস্য এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী। উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বলী খেলার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান এনএইচটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানসীর।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট