চট্টগ্রাম সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

প্রসূতির ‘মৃত্যু’ গোপন রেখে চমেক হাসপাতালে রেফার!

রামগড়ে প্রসূতির দরিদ্র স্বামীর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১:১২ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রসূতির স্বামীর অভিযোগ, মেমোরিয়াল হাসপাতালের এক চিকিৎসক তার স্ত্রীর মৃত্যুর কথা গোপন রেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

গর্ভের সন্তানসহ মারা যাওয়া শিরিনা আক্তার (২৫) ফটিকছড়ির প্রত্যন্ত হলুদিয়া মাস্টারপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষি শ্রমিক মো. আবুল খায়েরের স্ত্রী। আবুল খায়ের  বলেন, ‘রবিবার বেলা ১১টার দিকে প্রসব ব্যথা নিয়ে মেমোরিয়াল হাসপাতালে স্ত্রী শিরিনকে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হসপিটালের ডাক্তার সিজার করতে হবে বলেন, এতে তিনি সম্মতি দেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘণ্টা     খানিকপর ওটি থেকে রোগীকে বের করে এনে  মহিলা ডাক্তার শারমিন আক্তার সুমি বলেন, রোগীর অবস্থা ভাল না। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় অচেতন স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়ে ডাক্তারকে বলি, রোগী তো মনে হয় মারা গেছে। তার প্রতিউত্তরে  ডাক্তার বলেন, মারা গেলে কি করার আছে, সব আল্লাহর হাতে’।

 

আবুল খায়ের আরও বলেন, পরে  ঐ হসপিটালের লোকজন তড়িঘড়ি করে এম্বুলেন্স ডেকে সেখানে তুলে দেন রোগীকে। রোগী জীবিত নেই  এমন সন্দেহ  মনে হওয়ায় তারা রামগড় বাজারে একটি ওষুধের দোকানে একজন পল্লী চিকিৎসককে  দেখালে তিনি বলেন রোগী মারা গেছে। পরে ওই পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শে  তারা উপজেলা স্বান্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে শিরিনকে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রোকসানা মৃত ঘোষণা করেন।

 

দরিদ্র কৃষি শ্রমিক আবুল খায়ের বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কার কাছে বিচার চামু। আল্লাহই তাগো (ডাক্তার) বিচার করবো।’

 

একটি গোয়েন্দা সংস্থার স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন,  ‘হসপিটালের ওটিতেই রোগী মারা গেছে।  নিজেদের দায়মুক্ত রাখতে তারা  মৃত রোগীকে অন্যত্র রেফার করেছে।’

 

এদিকে,  এ বিষয়ে কথা বলতে মেমোরিয়াল হাসপাতালে ফোন করে ডা. শারমিন আক্তার সুমির মোবাইল ফোন নম্বর চাইলে একজন স্টাফ বলেন, ‘ডাক্তারের ফোন নম্বর দেয়া নিষেধ আছে।’ পরে ওটিতে প্রসূতির মৃত্যু এবং মৃত রোগীকে চমেক হাসপাতালে রেফার করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক পক্ষের মো. আলম বলেন, ‘প্রসূতি এক্লাম্পসিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল। শ্বাসকষ্ট ও খিচুনির কারণে সিজার করা সম্ভব নয় বলে দায়িত্বরত ডাক্তার ওই রোগীকে চমেক হাসপাতালে রেফার করেন।’ তাদের হসপিটালের ওটিতে ওই প্রসূতির মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

 

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতা আফরিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে  বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’

 

উল্লেখ্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাড়া নিয়ে গত জুনে মেমোরিয়াল হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা হয়।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট