চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

এক লাফে দাম কমেছে ৪০ টাকা

ইফতেখারুল ইসলাম

৬ জুন, ২০২৩ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

আমদানি অনুমতি পাওয়ার দিনেই সোনা মসজিদ, ভোমরা এবং হিলি স্থল বন্দর দিয়ে ৭২ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ এসেছে। এই খবরে দেশের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমছে। দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে গতকাল (সোমবার) দেশি পেঁয়াজ কেজি ৫০ টাকায়ও বিক্রি করা যায়নি। সে হিসেবে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এর প্রভাব তেমন পড়েনি।

 

সোনা মসজিদ স্থল বন্দরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান পূর্বকোণকে জানান, তাদের বন্দর দিয়ে ৫৮ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে এসেছে। ভারতীয় এক ট্রাক পেঁয়াজ পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের দুটি ট্রাক লাগে।

 

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল (সোমবার) ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১১ ট্রাক এবং হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আরো ৩ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক যোগ করেও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম পড়ছে কেজি ২০ টাকা।

 

এদিকে, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। গতকাল (সোমবার) বন্দর নগরীর বিভিন্ন অলি-গলির মুদি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা গতকাল সোমবারও পেঁয়াজের খুচরা দর মানভেদে কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা আদায় করেছে। শুলকবহরের বিসমিল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিম পূর্বকোণকে জানান, তিনি গত রবিবার বহদ্দারহাটে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে না কিনে ফিরে আসেন। গতকাল কেজি ৭৫ টাকা দরে এক বস্তা (৫০ কেজি) পেঁয়াজ এনেছেন দুপুর ২টার দিকে। কিন্তু সন্ধ্যায় জানতে পারেন খাতুনগঞ্জে ৫০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।  আমদানি করা পেঁয়াজ আজ (মঙ্গলবার) থেকে বাজারে আসা শুরু করলে দাম আরও ২০ টাকার মতো কমবে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ীরা। যে পেঁয়াজ মার্চ মাসে খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন সেই দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হবে বলে তাদের আশা। খাতুনগঞ্জের একাধিক আড়তদারের সাথে আলাপকালে তারা জানান, পেঁয়াজের দাম বাড়া বা কমার মধ্যে তাদের কোন লাভ ক্ষতি নেই। কারণ তারা কেজি প্রতি কমিশন পান। পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর থেকে বেপারিরা পেঁয়াজ এনে খাতুনগঞ্জে আড়তে দেন। তাই দাম কমা বা বাড়ার উপর বেপারিদের লাভ- লোকসান হবে।

 

চাক্তাইয়ের মেসার্স আফরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আলাউদ্দিন আলো জানান, আমদানির অনুমতির ঘোষণা আসার পর দাম অনেক পড়ে গেছে। কিন্তু কোনো ক্রেতা নেই। দাম আরও কমবে, এ আশায় কেউ পেঁয়াজ কিনছেন না।

 

কৃষকদের সুরক্ষা দিতে গত ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয়। বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা মনে করেন, কৃষককে সুরক্ষা দিতে এমনভাবে পেঁয়াজ আমদানির শুল্কহার ঠিক করতে হবে, যাতে আমদানিমূল্য দেশে উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়। এতে আমদানিও হবে, আবার কৃষকও বাঁচবে।

 

জানতে চাইলে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোন সংস্থাই কাজ করছে না। পুরো বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। আড়তদার, মজুদদার ও ব্যবসায়ীরা এই সুযোগেই ক্রেতাদের জিম্মি করে রেখেছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেসার্স গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ কেজি, মেসার্স এস এন ট্রেডিং ৫ লাখ কেজি, মেসার্স মা ট্রেডার্স ৩০ লাখ কেজি পেঁয়াজের আমদানি অনুমতি নিয়েছে। এছাড়া আরো কিছু আমদানিকারক অনুমতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট