চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

একুশে বইমেলার পরিবর্তে হচ্ছে ‘স্বাধীনতার বইমেলা’

একুশে বইমেলার পরিবর্তে হচ্ছে ‘স্বাধীনতার বইমেলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার পর্দা উঠেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। প্রতিবছর ঢাকার সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রামেও বইমেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনের প্রথা এবার ভেঙে যাচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুটি কারণে ফেব্রুয়ারিতে বন্দরনগরীতে একুশের বইমেলা আর হচ্ছে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রমজান মাস শুরু হওয়ায় মেলার আয়োজন কঠিন হয়ে পড়ে।

আয়োজক ও প্রকাশনী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারিতে বই মেলার আয়োজন না হলেও ঈদের পরপরই মার্চের শেষ সপ্তাহে বড়সড়ভাবে মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় প্রকাশনীকে মেলায় আনতেও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মেলার আয়োজক সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে স্বাধীনতার মেলা নামে মাসব্যাপী একটি মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

 

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে বইমেলা শুরু হলেও এ বছর সময়সূচি ভেঙে যায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায়। নির্বাচনের আগে জনসমাগম হয় এমন আয়োজনের ওপর বিধিনিষেধ ছিল, যে কারণে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি তখন। অন্যদিকে নির্বাচন শেষ হতে না হতেই সামনে চলে আসে পবিত্র রমজান মাস। রমজানে পাঠক ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমবে, প্রত্যাশিত বেচা-বিক্রি হবে না, এ আশঙ্কা থেকেই চট্টগ্রামের প্রকাশকদের সিংহভাগ এবারে মেলা আয়োজনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। যার কারণে মেলার আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

 

চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের নেতারা জানান, জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাধিক বৈঠকে প্রকাশকদের অভিমত ছিল একই। এই সময়ে বইমেলা করলে ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি আছে। নির্বাচনের পরবর্তী পরিবেশ ও রমজানের মিলিত প্রভাবে মেলা আয়োজন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল প্রকাশকদের মধ্যে।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু বলেন, নির্বাচনের আগে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা ছিল, নির্বাচন নিয়েও নানা শঙ্কা কাজ করছিল। আবার রমজানে বইমেলা করলে পাঠকের উপস্থিতি কম থাকবে, বিক্রি হবে কম। এ সব বিবেচনায় আমরা এবারে ফেব্রুয়ারিতে মেলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পরিকল্পনা, ঈদের পরপরই চট্টগ্রামে বড় পরিসরে বইমেলা আয়োজন করার।

 

তৃতীয় চোখ প্রকাশনীর স্বত্বাাধিকারী আলী প্রয়াস বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই বড় আয়োজনে জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার ওপর নির্বাচন পরবর্তী সময় আসতেই রমজান চলে এসেছে। রমজানে পাঠক উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। ফলে বিক্রির সম্ভাবনাও কমে থাকে। এই বাস্তবতায় এ বছর বইমেলা করলে আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির ঝুঁকি ছিল। তাই সম্মিলিতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ মাসে নয়, ঈদের পর মেলা করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। আশা করছি, তখন প্রকাশক, পাঠক ও সবার সহযোগিতায় একটি সফল মেলা আয়োজন করতে পারব।

 

তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে একুশের বইমেলা এক ছাতার নিচে আয়োজন শুরু হয় ২০১৯ সালে, যখন বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্ন মেলা বন্ধ করে চসিক জিমনেশিয়াম মাঠে একীভূত আয়োজন করে। এরপর ২০২১ সালে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মেলা হয়নি। তারপর নিয়মিত মেলা হয়ে আসছে। সর্বশেষ গত বছর ১ ফেব্রæয়ারিতে মাসব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। টানা চার বছর পর মেলা হচ্ছে না।

 

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, চসিকের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু রমজানকে সামনে রেখে প্রকাশকরা আগ্রহ দেখাননি। তাই ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হচ্ছে না। তবে ঈদের পর মার্চে স্বাধীনতার বইমেলা নামে মাসব্যাপী আরও আকর্ষণীয় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তখন আমাদের টার্গেট বড় বড় প্রকাশনীগুলোকে মেলায় অংশ গ্রহণ করানো।

 

এদিকে, বইমেলা না হওয়ায় হতাশ চট্টগ্রামের লেখক-সাহিত্যিকরাও। বিশিষ্ট কবি, ছড়াকার ও সাংবাদিক ওমর কায়সার বলেন, আমরা সারাবছর এই বইমেলার অপেক্ষায় থাকি। আশা ছিল এবারও বইমেলা হবে। কিন্তু শুনলাম হচ্ছে না। এটা আমাদের খুব আশাহত করেছে। চট্টগ্রামের মার্কেটিং সিস্টেমটা কিছুটা দুর্বল। সেজন্য প্রকাশকেরাও প্রতীক্ষায় থাকেন বইমেলার জন্য, কেননা এটির মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে তাদের সংযুক্তি বাড়ে। আর একটা বিষয়-বইমেলাটা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হয়ে উঠছিল। কিন্তু একবার ভাঙন ধরা মানে মেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়া।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট