
কক্সবাজার টেকনাফের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াবনের গাছ উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ মডেল থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মামলায় এজহারনামীয় আসামিরা হলেন সেন্টমার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত উল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কেয়াগাছ দ্বীপের সম্পদ, পরিবেশবিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালেই সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে। ইসিএ-এর আইন অনুযায়ী, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ যার মাধ্যমে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি হয়। এছাড়া সেখানে যেকোনো প্রকারের অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় ২০২২ সালে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় এবং দ্বীপে ইট ও সিমেন্ট নেওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ