
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে ফাতেমা বেগম (২৪) নামের এক তরুণী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী পার্শ্ববর্তী ৮ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ এরফান হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফাতেমা গার্মেন্টসে চাকরি করে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সুবাদে স্থানীয় প্রভাবশালী বিবাহিত যুবক নেজাম উদ্দিনের সাথে সাথে পরিচয় ঘটে। পরিচয় থেকে প্রেম, প্রেম থেকে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ফাতেমা। গর্ভবতী হয়ে পড়ার ফাতেমা নেজাম উদ্দিনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়ে না করাতে ফাতেমা আদালতে নারী ও নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রেম করে বিয়ের প্রস্তাবে অবৈধ মেলামেশার ফলে গত ২৭ জানুয়ারি ফাতেমা বেগম কন্যা সন্তান প্রসব করেন। ফাতেমা গর্ভবতী হয়ে গেলে স্বামীর স্বীকৃতির জন্য নেজাম উদ্দীনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা তুলে নিতে ফাতেমাকে হুমকি দিতে থাকে নেজাম। বিষয়টি নিয়ে চাপের মুখে পড়ে ফাতেমা। সামাজিকভাবে সবাই রক্ত চক্ষু দেখতে থাকে এই অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণ।
বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, মেয়েটি ভেঙে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই জন্যই মেয়েকে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। শিশু সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
পূর্বকোণ/পিআর