
চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর ফলে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দর সচল হয়েছে, ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপর আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে সচল হয় বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, শেড, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে লাইটারিং (বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস) ইত্যাদি।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে পরের ২ দিন আট ঘণ্টা ও তিন দিন টানা কর্মবিরতির পর নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে দুই দিন স্থগিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে চার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। ঢাকায় ব্রিফিং করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ও বিডার চেয়ারম্যান। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।
পূর্বকোণ/পিআর