
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লালদিঘি মানেই শতাব্দীপ্রাচীন এক টুকরো জীবন্ত ইতিহাস। আর সেই ঐতিহ্যের কোলেই আধুনিকতার ঝাণ্ডা উড়িয়ে জেলা পরিষদ টাওয়ারের ১৬ তলায় আত্মপ্রকাশ করেছে এক ‘টাউন হল’। কেবল একটি রেস্টুরেন্ট বা ব্যাংকুয়েট হল হিসেবে নয়, বরং চট্টগ্রামের ভোজন সংস্কৃতি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের সংজ্ঞাকে নতুন করে লিখতে এই সাহসী পথচলা একঝাঁক তরুণ উদ্যোক্তার। ‘টাউন হল’- এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর প্যানোরামিক বা বিস্তৃত দৃশ্যপট। শহরের ১৬ তলার উচ্চতা থেকে পুরো চট্টগ্রামকে এক নজরে দেখার অভিজ্ঞতা যে কাউকেই মুগ্ধ করে। নিচে ব্যস্ত শহর, দূরে আলো-ছায়ার মায়াবী রেখা, আর ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা এক শান্ত, আভিজাত্যপূর্ণ পরিবেশ, এই বৈপরীত্যই ‘টাউন হল’ কে আলাদা করে তোলে।
প্রায় ১৪ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে নান্দনিক ইন্টেরিয়র ও পরিমিত আভিজাত্যের সংমিশ্রণ। আধুনিক ডিজাইন, পরিস্কার লে-আউট এবং আলো-বাতাসের পরিকল্পিত ব্যবহার পুরো জায়গাটিকে করে তুলেছে প্রশান্ত ও অভিজাত। এখানে একসাথে প্রায় এক হাজার অতিথি ধারণক্ষমতা থাকায় বড় আয়োজনের জন্য এটি হয়ে উঠেছে আদর্শ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওপেন কিচেন সুবিধা, যেখানে রান্নার পুরো প্রক্রিয়াই অতিথিদের অভিজ্ঞতার অংশ, ভোজন রসিকদের জন্য যা নিঃসন্দেহে এক অনন্য সংযোজন। চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র লালদিঘি সংলগ্ন জেলা পরিষদ টাওয়ারে টাউন হলের অবস্থান, যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সুবিধা। অভিজাত এলাকায় সুউচ্চ এই অবস্থান ‘টাউন হল’-কে ইতোমধ্যেই একটি নতুন ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
আধুনিক সময়ে মানুষ কেবল খাবারের স্বাদের জন্য বাইরে যায় না। তারা খোঁজে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, মানুষ এখন প্রিয়জনদের সঙ্গে এমন মুহূর্ত কাটাতে চায়, যা স্মৃতিতে রয়ে যাবে দীর্ঘদিন। বিশেষ করে বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, বড় কর্পোরেট পার্টি কিংবা বিশেষ দিনের উদযাপনে প্রয়োজন হয় এমন একটি আভিজাত্যপূর্ণ ব্যাকড্রপ, যা প্রতিটি ছবি ও মুহূর্তকে করে তুলবে অনন্য। ‘টাউন হল’ তাদের অত্যাধুনিক ব্যাংকুয়েট হলের মাধ্যমে ঠিক সেই অভাবটিই পূরণ করছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছেন মো. নিজামুল হক, ব্যারিস্টার মুনিম উদ্দিন চৌধুরী, ওমর খলিল, আদনানুল ইসলাম, জোবায়ের মোরশেদ, শাহ আকরাম ও রাকিবুর রহমান- একঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ উদ্যোক্তা। স্বপ্ন, সাহস আর পরিকল্পনার সমন্বয়ে তারা গড়ে তুলেছেন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা চট্টগ্রামের সামাজিক ও ভোজন সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের এই হল গত রবিবার যাত্রা শুরু করেছে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহের হোসেন, দৈনিক পূর্বকোণের প্রকাশক ও পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম রমিজউদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নিবাহী চৌ. রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. ইসতিয়াক উদ্দিন আরাফাত, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট জিয়া হাসান হাবীব,খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবসার উদ্দিন চৌধুরী, উদ্যোক্তা মো. নিজামুল হক, ব্যারিস্টার মুনিম উদ্দিন চৌধুরী, ওমর খলিল, আদনানুল ইসলাম, জোবায়ের মোরশেদ, শাহ আকরাম, আব্দুল নুর খান জনি, রাকিবুর রহমান এবং ইকবাল হোসেন মামুন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা বলেন, তরুণদের স্বপ্ন ও নিষ্ঠার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। টাউন হল চট্টগ্রামের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় পরিণত হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের দেশি, চাইনিজ ও কন্টিনেন্টাল খাবার পরিবেশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘টাউন হল’ বাণিজ্য নগরী খ্যাত চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আধুনিক ব্যবস্থাপনা আর চিরচেনা বাঙালি আতিথেয়তার মেলবন্ধনে ‘টাউন হল’ খুব শিগগিরই চট্টগ্রামের ভোজন ও উৎসবের ইতিহাসে একটি অনন্য নাম হয়ে উঠবে- এমনটাই বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের।
পূর্বকোণ/এএইচ