চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

বড় চ্যালেঞ্জ ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো : ডিসি জাহিদুল

বড় চ্যালেঞ্জ ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো : ডিসি জাহিদুল

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় নির্বাচন। আর মাত্র দুই দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে সেই কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ, আশা-আকাঙ্ক্ষার কমতি নেই। ১৭ বছর পর রাজনৈতিক সরকারের প্রভাবমুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন। তাই ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোই সরকার ও রাজনৈতিক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের আস্থা ফিরে আসছে। সবার সম্মিলিত ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চায় সরকার।

 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। ভোটারদের মন জয় করতে জোরেশোরে প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকেরা। ছুটে গেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শেষ সময়ে নিজেদের সমর্থন ও ভোট বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এবার পোস্টার না থাকলেও ব্যানার-ডিজিটাল ব্যানারে ভরে গেছে পাড়া-মহল্লা।

 

শেষমুহূর্তে ভোটের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। চলছে জয়-পরাজয় হিসাব মেলানো ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ভোটকেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত ভোটার উপস্থিতিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এমনকি প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এমন আশঙ্কা করছেন।

 

এ প্রতিবেদক অন্তত ১০ জন রাজনৈতিক নেতা ও তিন জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতিই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পাঁচ নেতা ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরানোর জন্য আমরা দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছি। মানুষের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। তারা বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নির্বাচনব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে দিয়েছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়েছে।

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে ভোটার মরিয়ম জাহান মুন্নী বলেন, ‘২০১৮ সালে ভোটার হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের ইচ্ছে রয়েছে। আশা করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু-সুন্দর ও গণতান্ত্রিক উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে।’

 

দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে বোয়ালখালী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভোটার সোনিয়া রমজানের। ভোটের পরিবেশ দেখে আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য মতে, ‘এবার রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও বলয়মুক্ত সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হবে বলে মনে হচ্ছে। তাই ভোট দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।’

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে প্রত্যাশিত ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। এটা মূলত নির্বাচনের তিন-চার দিন আগে বোঝা যাবে। এই সময় নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতার ওপর ভোটার উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের নেটওয়ার্কের কারণে ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হয়।

 

নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গতকাল রবিবার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

 

গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এই তিনটি নির্বাচন একতরফা, রাতের ভোট ও আমি-ডামি নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায়। নিয়ন্ত্রিত এসব নির্বাচনের কারণে ভোটার ও মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়ে।  

 

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। নেতা-কর্মীদের রেখে ভারতে পালিয়ে যান দলটির প্রধান। দলটির নেতাকর্মীদের অনেকেই কারাগারে। এছাড়া দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। এবার নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত জোট।

 

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট