চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেবে দ. এশিয়ার ভূরাজনীতি, বেকায়দায় ভারত

এএফফি বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেবে দ. এশিয়ার ভূরাজনীতি, বেকায়দায় ভারত

অনলাইন ডেস্ক

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন চীন বাংলাদেশে প্রভাব আরও গভীর করতে চাইছে, অন্যদিকে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক স্পষ্টভাবেই চাপে পড়েছে।

ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের তিন দিন পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে আশ্রয় দেয়ায় ভারতের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় ঢাকায়। এর জেরে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে নতুন বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যম এএফপির বিশ্লেষণে এসব বলা হয়েছে। 

১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ শেখ হাসিনার আমলেও চীনের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তবে সে সময় দিল্লিই ছিল ঢাকার প্রধান অংশীদার। বিশ্লেষকদের মতে, সেই সমীকরণ এখন বদলাচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের সিনিয়র ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার মূলত চীনের দিকে ঝুঁকছে।’ তার মতে, গোটা বঙ্গোপসাগর ঘিরে চীনের কৌশলগত চিন্তায় বাংলাদেশ এখন কেন্দ্রীয় অবস্থানে।

ড. ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল চীনে, যা এই কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও চীন ভারতের সীমান্তের কাছে প্রস্তাবিত একটি উত্তরাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটির পাশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে।

এর বিপরীতে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নিয়মিত টানাপোড়েন চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যদিও ঢাকা তা অতিরঞ্জিত বলে নাকচ করে দেয়।

 

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রভীন দোন্থি মনে করেন, নতুন সরকার অস্থিতিশীলতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে-তবে সবসময়ই তা ভারতের সঙ্গে বৈরিতা তা নয়।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট