চট্টগ্রাম রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি ১০ নারী ও এক সংগঠনের

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি ১০ নারী ও এক সংগঠনের

অনলাইন ডেস্ক

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৪:০৭ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ১০ নারী ও একটি সংগঠন।

 

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন, যেখানে তারা জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছেন।

 

রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না তুলে ধরে চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়, বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক অবদানকে অস্বীকার করার শামিল।

 

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

মোশরেফা মিশু বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ওই ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য এসেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে তথাকথিত ‘হ্যাকিং’ দাবিটি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

 

নারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তারা মত দেন।

 

এ সময় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল।

 

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট