
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে একটি ভাড়া বাসায় গড়ে তোলা হয়েছিল ‘নকল বিদেশি মদ’ তৈরির কারখানা। দেশি রাসায়নিকের সঙ্গে বিভিন্ন ফ্লেভার মিশিয়ে সেখানে তৈরি হতো নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল মদ।
রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে শহরের পশ্চিম নতুন বাহারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় মোহন সেন (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, পৌরসভার পশ্চিম নতুন বাহারছড়া স্ক্র্যাপ গলির হাকিম মিয়ার মালিকানাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কারবার চলে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার মোহন সেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সুচিয়া শ্মশান খালিবাড়ি এলাকার কার্তিক সেনের ছেলে। তিনি ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে নকল মদের কারখানা পরিচালনা করছিলেন।
অভিযানস্থলে সাধারণ তরলকে নিপুণভাবে বিদেশি মদের রূপ দেওয়ার এক সুসংগঠিত কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখান থেকে ১১০ বোতল তৈরি মদ ও বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকসহ আধুনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশি অভিযানে সিলিং ও সিলার মেশিন এবং হিট গানের পাশাপাশি কমলা, লেবু ও কফির ফ্লেভারযুক্ত সাড়ে ১৬ লিটার রাসায়নিক পদার্থ এবং কয়েকশ নকল স্টিকার, বারকোড ও সিকিউরিটি সিল উদ্ধার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, সাধারণ স্পিরিট বা অ্যালকোহলের সাথে এসব ফ্লেভার মিশিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে নামী ব্র্যান্ডের বোতলে ভরে এবং যান্ত্রিকভাবে সিল করে তা আসল বিদেশি মদ হিসেবে বাজারজাত করা হতো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন মৌসুমে এই ধরনের ভেজাল মদ স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়। এই বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত মদ পান করলে মানুষের লিভার ও কিডনি বিকল হওয়াসহ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার মোহন সেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও জালিয়াতির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/পারভেজ