চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

বছরে ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু পানিতে ডুবে, পাঠ্যক্রমে সাঁতার অন্তর্ভুক্তির দাবি 

কক্সবাজার সংবাদদাতা

২৭ মার্চ, ২০২৬ | ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের অনাকাঙ্ক্ষিত সলিলসমাধি এবং সারা দেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর উচ্চহার রোধে মহান স্বাধীনতা দিবসে (২৬ মার্চ) কক্সবাজারে বড় পরিসরে ‘ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ সচেতনতা কর্মসূচি’ পালিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাইফ সেভিং সোসাইটি, চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সেমিনার, সচেতনতামূলক বিলবোর্ড রেপ্লিকা উদ্বোধন, সেফটি বুকলেট বিতরণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে প্রায় ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর বড় একটি অংশই শিশু, কিশোর ও তরুণ। লাইফ সেভিং সোসাইটির আহবায়ক জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু সমুদ্রের প্রকৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও সাঁতার না জানার কারণে প্রায়ই সাগরে ডুবে মেধাবী শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, যা সমাজ ও পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এই জীবনঘাতী ঝুঁকি কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে কক্সবাজারের নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ও পাঁচতারা হোটেল ‘স্বপ্নীল সিন্ধু’র বলরুমে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। জাতিসংঘের রেজল্যুশন অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলামে ‘পানিতে সুরক্ষা (ওয়াটার সেফটি), সাঁতার ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা’ অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান তাঁরা।
এছাড়া বক্তারা বলেন, সাগরকন্যা কক্সবাজারসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগকে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী বলা যায়। তাই পর্যটকবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ গড়তে সৈকতের গুপ্তঘাতক খ্যাত ‘রিপ কারেন্ট’ (Rip Current) সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সেই সঙ্গে ট্যুরিস্ট মেডিকেল স্থাপন, জরুরি উদ্ধারে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং উদ্ধারকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতিকে ট্যুরিস্ট সেফটি বুকলেট প্রদান করেন লাইফ সেভিং সোসাইটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার কবির, হাবিবুল্লাহ বাহারসহ অন্য অতিথিরা। পরে সচেতনতামূলক তথ্যে সাজানো একটি বিলবোর্ডের রেপ্লিকা উদ্বোধন করেন স্বপ্নীল সিন্ধুর এমডি ক্যাপ্টেন হাবিবুল মাওলা। এরপর সেমিনার শেষে লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

কর্মসূচিতে পানিতে ডুবে স্বজনহারা পরিবার, সরকারি কর্মকর্তা, নৌ স্কাউট, ফায়ার সার্ভিস, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং সাংবাদিকেরা অংশ নেন। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডা. মো. মুরাদ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মইনুদ্দিন ইলিয়াস, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. মাজেদ সুলতান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. রুমা আলম, চমেকের ডা. রাখাল চন্দ্র বড়ুয়া এবং ক্যাডেট কলেজ ক্লাব চট্টগ্রামের প্রাক্তন প্রেসিডেন্টসহ বিশিষ্টজনেরা।

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট