চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

হাটহাজারীতে মেহেদীর রঙ শুকানোর আগেই লাশ নববধূ, স্বামী গ্রেপ্তার

হাটহাজারী সংবাদদাতা

২২ মার্চ, ২০২৬ | ৬:৫০ অপরাহ্ণ

মেহেদীর রঙ শুকানোর আগেই লাশ হলো নববধূ ঝুমা আক্তার! পারিবারিকভাবে এক মাস ১৯ দিন আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে লাল শাড়ি পড়ে নববধূ হয়ে স্বামীর ঘরে পা রেখেছিলেন মোসাম্মৎ ঝুমা আক্তার (১৯)। ঝুমার স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঝুমাকে পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে। তার স্বামীর সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পাষণ্ড স্বামীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে ঝুমার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় রবিবার (২২ মার্চ) নিহত ঝুমার পিতা মো. শাহ আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা (নম্বর-১৮) দায়ের করেছে। এর আগে গত ১৯ মার্চ দুপুরে উপজেলার আমান বাজার এলাকার পশ্চিমে চসিক ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের করিম বেকারী বাড়ির আমিন ভিলার দ্বিতীয় তলার শয়ন কক্ষের বেড থেকে ঝুমার মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ঝুমার স্বামী উক্ত এলাকার আজগর আলীর পুত্র মো. নেওয়াজ শরীফ প্রকাশ বাবু (৩১) থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া নববধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল। ঝুমা আক্তার উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের কারকনের পাড়া এলাকার চাঁন মিয়া টেন্ডল বাড়ির মো. শাহআলমের কনিষ্ঠ কন্যা।

এদিকে, ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশনের গ্রিলের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ঝুমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানিয়েছে ৷ তবে নিহত ঝুমার পরিবারের দাবি, ঝুমাকে পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে। তার স্বামী মো. নেওয়াজ শরীফের সঙ্গে এক মেয়ের পরকীয়া রয়েছে। ঝুমার বড় ভাই তৌহিদুল আলম বলেন, আমি প্রবাসে থাকি। প্রবাস থেকে এসে অনেকটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে আমার শান্তশিষ্ট ছোট বোন ঝুমা আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন করি।

বিয়ের এক মাস ১৯ দিন যেতে না যেতেই ছোট বোনকে লাশ হতে হলো। আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে তার স্বামী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। যদিও তার স্বামীর পরিবারের লোকজন বলছে, ঝুমা আত্মহত্যা করেছে; অথচ পুলিশ তার শয়ন কক্ষের বেড থেকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসনের কাছে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নিহতের বড় ভাই।

অন্যদিকে নিহত নববধূর ঝুমার বড় বোন শামীমা আক্তার রুমি জানান, আমার ছোট বোনের সাথে বিয়ের পর থেকে তার স্বামী নেওয়াজ শরীফ স্বাভাবিক কোন আচরণ করেনি। এসব বিষয় আমার ছোট বোন আমাকে প্রতিনিয়ত জানাত। আমি তাকে ধৈর্য ধারণ করতে বলতাম, তবে এসব বিষয় আমি আমার পরিবারের অন্য কারো সাথে শেয়ার করিনি। এরমধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় আমার ছোট বোন আমাকে তার স্বামীর একটা ভয়েস রেকর্ড পাঠায়। ওই কল রেকর্ডটিতে তার (ঝুমা) স্বামী একটা মেয়েকে বলতে শুনা গেছে, আমিতো বলছি, তোমাকে বিয়ে করব; সমস্যা নাই। এরপরও যদি এরকম কর তাহলেতো আর কিছু করার নাই। মানুষ মানুষকে এভাবে অবিশ্বাস করা যায় না। তুমি অনলাইনে আছো; আমি কল দিচ্ছি, অথচ তুমি বলতেছো এমবি নাই।

মামলা দায়েরে বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, নিহত নববধূ ঝুমার পিতা বাদী হয়ে তার স্বামীকে আসামি করে একটি মামলা দাযের করেছেন। উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত নববধুর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট