
কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় মা ও মেয়েকে মারধরের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদালত। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমকে সিসিটিভি ফুটেজ ও যাবতীয় তথ্যসহ সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম।
আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) ও তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগমের (২১) অভিযোগ, গত বুধবার বিকেলে পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কুমার ঘোষের কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
জানা গেছে, জুবাইদার বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগের জন্য করা একটি মামলার তদন্তভার ছিল এসআই পল্লবের কাছে। তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নামে তিনি ২৫ হাজার টাকা দাবি করলে তাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও জুবাইদার বিপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ায় তারা টাকা ফেরত চেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন।
রেহেনার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাঁদের থানায় ডাকা হয় এবং সেখানে তাদের প্রচণ্ড মারধর করা হয়। পরবর্তীতে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলম তাদের দুজনকে এক মাস করে সাজা প্রদান করেন।
রেহেনার দাবি, তারা রক্তাক্ত অবস্থায় ইউএনও-এর কাছে বিচার চাইলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ওসির রুমে চলে যান। এরপর পুলিশ তাদের হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
গত শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলমের আদালত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা বাতিল করে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশে ওসির ব্যাখ্যার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, আটক সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার এবং থানার সিসিটিভি ফুটেজের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাও আদালত জানতে চেয়েছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ