
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ নিশ্চিন্তাপুর লাল শাহ নগর এলাকায় বার্ষিক ওরশকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, প্যান্ডেল ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাজার এলাকায় ওরশ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন।
শনিবার (৭ মার্চ) লালশাহ মোয়াজ্জেম ও বদু ফকিরের বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে মাজারের ওয়ারিশ দাবিদার স্থানীয় রোশাইপাড়া পক্ষ এবং ওরশ উদযাপন কমিটির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কিছু দুষ্কৃতকারী ওরশের জন্য তৈরি প্যান্ডেলের সামিয়ানা কেটে দেয় এবং চেয়ার ভাঙচুর করে।
এই সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও মারামারির ঘটনায় আজিজুল হক মানিক, দেলোয়ার ও কাঞ্চন নামে তিনজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে দুপক্ষকে থানায় ডাকা হলেও একটি পক্ষ উপস্থিত হয়নি। এর ফলে মাজার এলাকায় যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মাজার জিয়ারত করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পীর-আউলিয়াদের মাধ্যমে এ দেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে এবং এখানকার মানুষ তাঁদের ভক্ত। একটি পক্ষের অসহযোগিতা ও সংঘর্ষের কারণে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি স্থানীয়দের শান্ত থাকার এবং অনাড়ম্বরভাবে যার যার মতো ধর্মীয় রীতি পালন করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, আইনশৃঙ্খলার কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ