চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

জঙ্গল সলিমপুরে নিখোঁজ রিপনের খোঁজ মেলেনি তিনমাসেও

জঙ্গল সলিমপুরে নিখোঁজ রিপনের খোঁজ মেলেনি তিনমাসেও

নাজিম মুহাম্মদ

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ২:০৪ অপরাহ্ণ

ব্যবসার বকেয়া পাওনা টাকা নিতে গত বছরের ৩ অক্টোবর সকাল আটটায় জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গিয়েছিলেন রিপন। পরে আর ফিরে আসেনি।  রিপনের স্ত্রীর দাবি-তার স্বামীকে অপহরণ করে হত্যার করার পর লাশ গুম করা হয়েছে।  তিনমাসেও খোঁজ মেলেনি ‘অপহৃত’ রিপনের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে সীতাকুণ্ড থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে রিপনকে উদ্ধার কিংবা মামলার আসামি গ্রেপ্তার কোনটি করতে পারেনি সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

 

মামলায় প্রধান আসামি জঙ্গল সলিমপুরের আলোচিত ‘ইয়াছিন’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, রিপনকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েরছ। আমি অসুস্থ থাকায় কয়দিন ধরে কাজ করতে পারিনি। রিপনকে জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।  এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।  স্ত্রী সোলতানার দাবি-রিপনকে হত্যা করে মৃতদেহ গুম করা হয়েছে।  যারা এ ঘটনায় জড়িত তারা প্রথমে মুক্তিপণ দাবি করেছিল।  পরে জানিয়েছে-রিপনকে হত্যা করা হয়েছে।  আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২০১৬ সালে জঙ্গল সলিমপুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শাহাদাত হোসেন ছোটন নামে এক যুবককে। হত্যার পর ছোটনের লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। প্রায় ১৪ মাস পর মাটি চাপা দিয়ে রাখা ছোটনের কঙ্কাল উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ৩ অক্টোবর জঙ্গল সলিমপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নিহত হয় একজন। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে (সকাল আটটায়) ছোটনের মতো একই কায়দায় রিপন নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনার তিনমাস পার হয়েছে। কিন্তু রিপনের খোঁজ মিলেনি। পরিবারের লোকজন রিপনকে খুঁজে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। 

 

স্ত্রী সোলতানা বেগম শংকিত রিপনের পরিণতি ছোটনের মতো হয়নি তো? রিপনের নিখোঁজের বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে তার স্ত্রী। পুলিশ বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় মামলা করা হয় সীতাকুণ্ড থানায়।

 

সোলতানা জানান, রিপনের নিজ বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর থানায়। তার বাবার নাম মোখলেছুর রহমান। তবে তার জন্ম জঙ্গল সলিমপুরে। সলিমপুরের ইসলামপুর জানুর বাপের খামার এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইট বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।  তার তিন মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। রিপন রোকন মেম্বারের অনুসারী ছিলেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ চলাকালে (৩ অক্টোবর) সকাল আটটার সময় রিপনকে ১০/১২ জন যুবক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার চারদিন পার হলেও রিপনের খোঁজ মিলেনি। প্রথম দিন রিপনের মুঠোফোনে (০১৬১২-৫৬৭৭০০) ফোন করা হলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফোন ধরেন। রিপন বেঁচে আছে কিনা তা নিয়ে শংকিত সোলতানা। সাধারণ ডায়েরি করার পর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ এসেছিল। তারা জসিম নামে একজনকে আলী নগর থেকে উদ্ধার করেছে। তবে রিপনকে পায়নি।

 

লাশ পোঁতা হয়েছিল ছোটনের: ২০১৬ সালে বাসা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শাহাদাত হোসেন ছোটন নামে এক যুবককে। হত্যার পর লাশ মাটিতে পুঁতে রাখে। ঘটনার ১৪ মাসের মাথায় ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখা ছোটনের কঙ্কাল উদ্ধার করে সিআইডি। ওই মামলায় জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল নেতা মশিউর ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল সিআইডি।

 

১০ জুলাই (২০১৬) রাত বারোটার সময় সলিমপুর ওভারব্রিজ এলাকার আমানত উল্লার ভাড়া বাসা ঘিরে ফেলে মশিউরের অনুগত কামাল, রানা, সালাউদ্দিন, কালু, রফিক, গিট্টু জাহাঙ্গীর, মামুন, কাওসার, আল আমিন, সোহেল, ওসমান ও বার্মা সায়েম। ওই বাসাতেই ছিল ছোটন। বাসা ঘিরে ফেলার বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ছোটনকে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আধামরা করে একটি ভ্যান গাড়িতে তুলে জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূলের ভেতরে স্কুল মাঠে নিয়ে দলনেতা মশিউরের কাছে হাজির করে।

 

ছোটন মারা যাবার পর মশিউর ও আরমান বলেন, যেভাবে হোক ছোটনের মৃতদেহ লুকিয়ে ফেলতে হবে। মশিউরের নির্দেশে রানা, কালু, রফিক, মামুন, কামাল, সালাউদ্দিন মিলে ছোটনের মৃতদেহ জঙ্গল সলিমপুর সিঙ্গাপুর নাসিরের মালিকানাধীন ক্যারাডি পাহাড়ে নিয়ে মাটির নিচে গর্ত করে পুঁতে ফেলে। বিষয়টি পুলিশ জেনে গেছে সন্দেহে দুদিন পর তারা রাতের বেলা মৃতদেহটি তুলে বস্তায় ভরে ছিন্নমূলের বহদ্দারহাট শাখার পাহাড়ের নিচে এনে রেখে দেয়। পরে ক্যারাডি পাহাড়ের পাদদেশে মাটির নিচে দ্বিতীয় দফায় পুঁতে রাখে। ঘটনার এক বছর পর ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ক্যারাডি পাহাড়ের পশ্চিমে কালিছড়া এলাকা থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছোটনের কঙ্কাল উদ্ধার করে সিআইডি। পরবর্তীতে ছোটনের মা বাবার ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে ছোটনের লাশ চিহ্নিত করে হয়। মামলাটি তদন্ত করেছিলেন সিআইডির সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট