
‘আল্লাহর কসম আমার শাশুড়ি আমাকে বিষ খাইয়ে দিয়েছে, আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে সে বলবে বিষ আমাকে খাওয়ায় দেয় নাই, তবে তিনি (শাশুড়ি) আমাকে বিষ খাওয়ায় দিছে।’ মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বেডে শুয়ে এসব কথা বলেছেন। এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় বিষপানে জড়িত সন্দেহে নগরী থেকে স্বামী ইউসুফকে আটক করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরে আজ রবিবার ভোরে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নিহত আমেনা বেগম (২৪) লোহগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মীর পাড়া এলাকার শফিক আহমেদের কন্যা। মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ ইউসুফ সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাহাদির পাড়া এলাকার হাজী বক্করের ছেলে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সাতকানিয়ার বাহাদির পাড়া এলাকায় বিষপানের পর ওই গৃহবধূকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চমেক হাসপাতালে রেফার করেন। এরপর ১৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে চমেক হাসপাতলে আমেনার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ আগস্ট আমেনার সাথে ইউসুফের বিয়ে হয়। তাদের একটি দু’বছরের একটা কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহত আমেনার বড় ভাই মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, গত শুক্রবার আমার বোন আমেনা আমাকে বলছে আমাকে নিতে আস। আমাকে এখানে শ্বশুর বাড়ি লোকজন মেরে ফেলবে। আমরা বলেছি ধৈর্য ধর। পরে তার স্বামী রাতে ফোন দিয়ে বলতেছে আমার বোন বিষ খেয়েছে। মূলত আমার বোনের স্বামী ইউসুফ, তার মা আমেনা বেগম এবং স্বামী বক্কর জোর করে বিষ খাইয়ে দিয়েছে। আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত আমেনার স্বামী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, যে ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সেটা মিথ্যে। আমেনার ভাগিনারা জোর করে করিয়েছে। আমাদের পারিবারিক বিরোধ ছিল, বেশ কয়েকবার বিচার সালিশও হয়েছে। কিন্তু গত শুক্রবার আমেনা আমি যখন একটি মাহফিলে যায়, তখন অসুস্থ হয়েছে বলে খবর দেয়। আমি তখন তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসে আমেনাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গতকাল দুপুর দিকে তার মৃত্যু হয়। সে খুব বদমেজাজি ছিল, আমি বা আমার পরিবার কেউ তার মৃত্যুতে জড়িত না। আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তাকে ওষুধ এনে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরপর সে বিষ পান করে বলে শুনেছি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, আমেনা বেগম নামে একজন গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যার খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় আমরা ওই মহিলার স্বামীকে আটক করেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে।
পূর্বেকোণ/পিআর