
গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে খুন করা হয় ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের জামায়াতকর্মী মুহাম্মদ জামালকে। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার নাজিম ফটিকছড়ি থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা জানিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম জানান, হত্যাকারীরা গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনিও নিহত জামালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার দিন রাতেই তিনি মোটরসাইকেলটি নিজের গ্রামের বাড়ি লেলাং শাহানগর গ্রামের কাবিল মিস্ত্রী বাড়িতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রাম শহরে চলে যান।
তিনি আরও জানান, গতবছর চট্টগ্রাম শহরের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ঝুট ক্রয়ের টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সাথে নিহত জামালের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ তাকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। নিহত জামাল বড় সাজ্জাদের আয়ত্তে না আসায় তিনি জামালকে হত্যার নকশা আঁকেন। পরে গ্রেপ্তার নাজিমের মাধ্যমে সাজ্জাদ জামালকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
পরিকল্পনা মোতাবেক নাজিম ফোন করে সাজ্জাদ গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের শাহনগর দিঘিরপাড়ে ডেকে আনেন। ফোন পেয়ে মোটরসাইকেলযোগে তিনজন এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে জামালকে হত্যা করে পালিয়ে যান। গুলিতে জামালের সঙ্গী নাছিরও গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই নাজিম নিহতের মোটরসাইকেল নিয়ে হত্যাকারীদের সাথে পালিয়ে যান।
ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে খুন, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার দেখানোমতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে নিহত জামালের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধারসহ অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যালোচনা ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ নিহত জামালের সঙ্গী নাজিম উদ্দিন প্রকাশ বাইট্টা নাজিমের (৫২) সংশ্লিষ্টতা পায়। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/এএইচসি