চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি মারা যায়নি, নেয়া হচ্ছে চমেক হাসপাতালে

রাখাইনে রাতভর ড্রোন হামলা-গোলাগুলি

মিয়ানমারের ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি মারা যায়নি, নেয়া হচ্ছে চমেক হাসপাতালে

টেকনাফ সংবাদদাতা

১১ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশু আফনান আক্তার (১০) মারা যায়নি। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

 

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশুটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানালেও পরে হোইয়ক্যাং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল দুপুরে জানান তথ্যটি সঠিক নয়।

 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস দুপুর আড়াইটার দিকে পূর্বকোণকে বলেন, ‘শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে। হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত কী হবে, জানি না।’

 

শিশুটির সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের বরাতে তার দাদা আবুল হাসেম বলেন, নাতনির সঙ্গে থাকা তার ছেলে শওকত জানিয়েছে দুপুর ১২টার পর তারা উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়েছে।

 

শিশু আফনান আক্তার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে ও তেচ্ছিব্রিজ হাজী মো. হোছাইন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

 

শিশুর চাচা শিক্ষক আলী আকবর সাজ্জাদ জানান, আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আফনান আক্তার অন্য শিশুদের সাথে উঠানে খেলছিল। এ সময় ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছিল। হঠাৎ মর্টার শেল এসে আফনান আক্তারের মাথায় পড়ে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেয়া হয়। ।

 

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে। টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনী ত্রিমুখীর ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের শব্দে আতঙ্কিত এপারের মানুষ। এলাকায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছে রাখাইনে এ সংঘর্ষ হচ্ছে। এখনো বোমা বিস্ফোরণ এবং শতশত গোলাগুলি চলমান। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রবিবার সকালেও প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। এসময় বুলেট এসে পড়েছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত গ্রাম লম্বাবিলে। হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে যে হারে বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হচ্ছে, সারারাত এপারের লোকজন জেগে ছিল। একেকটা বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে। হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছে। বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

 

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিনদিন হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শতশত রাউন্ড গুলি ও একের পর বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এপারের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাঘাত ঘটছে। সেখান থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে। মানুষের চিংড়ি ঘেরে ও চাষের জমিতে গুলি এসে পড়ছে। এখনো গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ হচ্ছে।

 

উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট