
চট্টগ্রামের রাউজানে সাম্প্রতিক সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড এবং প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের অনুসারীদের তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের গণি বেকারি এলাকার গুডস হিলের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দাবি করেন, রাউজানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার বিষয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত হলেও রাউজান আজও পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাউজানে সংঘটিত ১৯টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১৩ জনই তার অনুসারী এবং সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ক্যান্সার আক্রান্ত যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ‘বি’ টিম হিসেবে পরিচিত একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাউজানে এই অস্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে এখনও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে যা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অস্ত্র চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া প্রশাসনের ভেতরে এখনও সক্রিয় থাকা আওয়ামী শাসনামলের সুবিধাভোগীদের তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী আরও বলেন, প্রতীক পাওয়ার পর তিনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন। রাউজানে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অপসারণ এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জি. বেলায়ত হোসেন, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবু জাফর চৌধুরী, রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল হুদা (চেয়ারম্যান), ফিরোজ আহমেদ, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ মাস্টার, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল, উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. এনাম উল্লাহ, জেলা জাসাসের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী মো. সরোয়ার খান (মনজু), অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ইমন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তছলিম উদ্দিন ইমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউছুফ তালুকদার, শাহ্জান শাহিল প্রমুখ।
পূর্বকোণ/পারভেজ