
কক্সবাজারের রামু উপজেলার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।
অভিযানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী নুরুল আবছার ওরফে ল্যাং আবছারের (৩৭) এক নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা গেলেও পালিয়ে গেছেন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গাকাটা ঘোনার পাড়া এলাকায় এ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, ১০ পদাতিক ডিভিশনের একটি বিশেষ আভিযানিক দল জানতে পারে- ল্যাং আবছার ও তার সশস্ত্র সহযোগীরা দুর্গম পাহাড়ের একটি বাড়িতে গোপন আস্তানা গেড়েছে। বুধবার ভোররাতে সেনাবাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুযোগ নিয়ে ল্যাং আবছার ও তার সহযোগীরা গহীন বনের দিকে যায়। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও গর্জনিয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে আস্তানাটি থেকে উদ্ধার করা হয় অত্যাধুনিক ও দেশীয় অস্ত্রের বড় ভাণ্ডার। যার মধ্যে রয়েছে- দুটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ডামি পিস্তল, দুটি একনালা বন্দুক ও একটি কাটার, ৪৯টি পিস্তলের গুলি, ৬টি রাইফেলের বুলেট ও ৩টি কার্তুজ। দুটি ধারালো অস্ত্র (ক্রিচ), একটি মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন।
অভিযান চলাকালে ল্যাং আবছারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘রক্ষিতা’ হিসেবে পরিচিত ফাতেমা বেগমকে (২৫) অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই আস্তানাটি ব্যবহার করেই ল্যাং আবছার পাহাড়ে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক কারবার পরিচালনা করতো।
জানা গেছে, স্থানীয়দের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত ল্যাং আবছার হত্যা, গুম, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও বড় মাপের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অন্তত চারটি হত্যা মামলাসহ ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় পাহাড়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন।
পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ