
হঠাৎ করেই বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করছে- এমন অভিযোগ উঠেছে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাধারণ মানুষ। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ও বুধবার সকালে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযানে সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফুল নামের দুই ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী মোট ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, পরিবহন সংকট, ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এলপিজি গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত নয় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট কেটে যাবে বলে তারা জানান।
অন্যদিকে ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১২ কেজির এলপিজি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৬০ টাকা হলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। যারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ