চট্টগ্রাম বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামে খৎনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই

চট্টগ্রামে খৎনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউ

বোয়ালখালী সংবাদদাতা

৭ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২:১৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মোস্তফা রোহান (৭) নামের এক শিশুকে খৎনা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবার। এরপর শিশুটির মৃত্যুর খবর আসে এলাকায়।

 

প্রাণচঞ্চল শিশুটির হঠাৎ মৃত্যু খবরে এলাকায় সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্যের। এ মৃত্যু আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশি কেউই মেনে নিতে পারছেন না। শোকের নহর বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। কেউ দুষছেন চিকিৎসকের অবহেলাকে।

 

গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) নগরীর একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ওইদিন রাতেই সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়।

 

মোস্তফা বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী গোয়াজ তালুকদার বাড়ির আবু মুসার ছেলে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। যদিও তার পরিবার আইনি পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত নেননি।

 

শিশুটির বাবা আবুল মুসা মানিক বলেন, প্রয়োজনীয় শারীরিক চেকআপ ছাড়াই মোস্তফাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ওইদিন রাতেই হাসপাতালে মোস্তফার মৃত্যু হয়।

 

তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মোস্তফাকে সার্জারি কক্ষে নেয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চমেকে নেয়ার পর মোস্তফাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবু মুসার অভিযোগ, অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। না হয় খৎনার মতো একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর কারণ নেই।

 

এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মোস্তফাকে ওই চিকিৎসকের কাছে প্রথম দেখানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়। সেখানে খৎনা ও ছোট পরিসরের একটি অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ ছিল এবং জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

 

শিশুটির মা সুমি আক্তারের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয় চিকিৎসকের অবহেলার কারণে হয়েছে।

 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণত খৎনার সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দেয়া হয় এবং এতে খুব কম ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয়। তবে এই ঘটনায় কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট