অনুমোদনের পাঁচদিনের মাথায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির তিন কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মিরসরাই উপজেলা, মীরসরাই পৌরসভা এবং বারইয়ারহাট পৌরসভার পূর্বের তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে তিনটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত বিএনপি’র কমিটি প্রকাশিত হওয়ার পরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশেষ একটি পক্ষ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে এলাকার জনগণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলে। মীরসরাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে একজন নিরীহ মানুষ হত্যা হয় এবং ১৫ জন আহতাবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে।মিরসরাইয়ের সাধারণ জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে পারে এবং দল (বিএনপি) সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সম্প্রতি অনুমোদিত তিনটি কমিটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হলো।
এর আগে গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মিরসরাই উপজেলা, মিরসরাই পৌরসভা এবং বারইয়ারহাট পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। উপজেলা কমিটিতে আব্দুল আউয়াল চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং আজিজুর রহমান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়। বারইয়ারহাট পৌর কমিটিতে মঈন উদ্দিন লিটনকে আহ্বায়ক ও জসিম উদ্দিন কমিশনারকে সদস্য সচিব করা হয়। অপরদিকে মিরসরাই পৌর কমিটিতে জামশেদ আলম কমিশনারকে আহ্বায়ক ও কামরুল হাসান লিটনকে সদস্য সচিব করা হয়।
কিন্তু এই কমিটি ঘোষণার পর তিন ইউনিটের পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ঝাড়ু মিছিল করেন। সবশেষ গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে দুপক্ষের কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতার শঙ্কায় উপজেলা চত্ত্বরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে একটি পক্ষ তা ভঙ্গ করে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। একইদিন বারইয়ারহাটে দুগ্রুপের সংঘর্ষে জাবেদ নামে এক পথচারি নিহত হয়। আহত হন আরো ৩০ নেতাকর্মী।
উপজেলা বিএনপির বিবাদমান দুইটি পক্ষের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আরেক যুগ্ম আহবায়ক ও মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ ঘোষিত ৮৩ সদস্যের মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে আব্দুল আউয়াল চৌধুরীকে আহবায়ক এবং আজিজুর রহমান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির কমিটিতে মাঈন উদ্দিন লিটনকে আহবায়ক এবং জসিম উদ্দিন কমিশনারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির কমিটিতে জামশেদ আলম কমিশনারকে আহবায়ক এবং কামরুল হাসান লিটনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/এএইচ